তরিক্বত চর্চায় পশুপ্রবৃত্তিকে সংযত এবং মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে সুপ্রবৃত্তির বিকাশ ঘটে

প্রকাশ:| শনিবার, ২ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ০৯:৪৩ অপরাহ্ণ

এশায়াত
শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়িঃ কালজয়ী মনীষী গাউছুল আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলীর অনুসৃত তরিক্বত চর্চায় মানুষের সহজাত পশুপ্রবৃত্তিকে সংযত এবং বিবেককে জাগ্রত করে সুপ্রবৃত্তির বিকাশ ঘটে। যুব সমাজকে সকল পাপাচার, অপরাধ ও ব্যভিচার থেকে মুক্ত করে সৎ ও গঠনমূলক কাজে নিবেদিত করে। যার ফলশ্র“তিতে গাউছুল আজমের তরিক্বতের অনুসরণে প্রতিষ্ঠা পাবে বর্তমান সময়ে সর্বস্তরের মানুষের কাঙ্খিত সামাজিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা।
শুক্রবার ০১এপ্রিল রাতে খাগড়াছড়ি পৌরসভা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বিশাল এশায়াত মাহফিলে উপস্থিত হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মোর্শেদে আজম আওলাদে রাসূল হযরতুলহাজ্ব অধ্যক্ষ আল্ল¬ামা ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্ল¬াহ্ আহমদী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, গাউছুল আজমের প্রতিষ্ঠিত কাগতিয়া দরবার ও সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি যুব সমাজকে ইসলামী সংস্কৃতি, অনুশাসন ও ভাবধারায় জীবন গঠনের শিক্ষা দেয়। কাগতিয়া দরবার অপসংস্কৃতি রোধে যুবকদেরকে অবসরে আল্লাহর গুণাবলী ও প্রশংসাসূচক হামদ এবং প্রিয় রাসূলের ওপর প্রেমময় নাত পরিবেশন ও শুনার শিক্ষা দেয়। পাহাড় বেষ্টিত প্রাকৃতিক মনোরম পার্বত্য শহর খাগছড়িতে স্মরণকালের বৃহৎ এ মাহফিলের আয়োজন করে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ ১৩৭নং খাগড়াছড়ি শাখা।

চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর এর সভাপতিত্বে মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌরসভা মেয়র আলহাজ¦ মো: রফিকুল আলম। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ¦ মো: জাহেদুল আলম, কাউন্সিলর মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাসুদ, এডভোকেট কামাল উদ্দীন মজুমদার, এডভোকেট ফিরোজুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মহসিন, অধ্যাপক মুহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, অধ্যাপক অলি আহাদ, অধ্যাপক এ. কে. এম. নাসিম উদ্দীন প্রমুখ। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক মুহাম্মদ ফোরকান মিয়া।

সভাপতির বক্তব্যে ড. আবুল মনছুর বলেন, মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি কোরআন-সুন্নাহ্র দিক-নির্দেশনা সমৃদ্ধ এ ধরণের এশায়াত মাহফিলের আয়োজনের মধ্যে দিয়ে যুব সমাজকে মাদক ও নেশাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে মুক্ত হয়ে সুন্দর জীবন গঠনের যে আহবান জানাচ্ছে তা এককথায় অসাধারণ ও বর্তমান সময়ের দাবি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেয়র রফিকুল আলম বলেন, তরিক্বত সাধনায় যুবকদের ব্যক্তিচরিত্র ও জীবনযাপনে যে আমূল পরিবর্তন ঘটে, বর্তমান সময়ে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ন্ত স্থাপন করেছে কাগতিয়া দরবার ও মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক মুহাম্মদ ফোরকান মিয়া বলেন, যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের চরম এই সময়ে কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম তাঁর আধ্যাত্মিক প্রচেষ্ঠা, স্নেহ ও মমতায় অগনিত দিশেহারা যুবককে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করে আলোর পথে ফিরিয়ে এনে যে আধ্যাত্মিক বিপ্লব ঘটিয়েছেন তা যুগ যুগ ধরে ইতিহাসে অক্ষয় থাকবে।

এতে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন মুনিরীয়া তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ ওলামা পরিষদের সচিব আল্লামা মুহাম্মদ ইব্রাহিম হানফী, কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম. এ. মাদরাসার মুহাদ্দিস আল্লামা কাজী মুহাম্মদ আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকী, মুহাদ্দিস আল্লামা মুহাম্মদ আশেকুর রহমান, মুনিরীয়া তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ ওলামা পরিষদের সহ-এশায়াত সম্পাদক আল্লামা মুহাম্মদ সেকান্দর আলী প্রমুখ। রাত থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, প্রবল বাতাস ও দুর্যোগ আবহাওয়ার মধ্যেও মাহফিলে খাগড়াছড়ি শহরের স্থানীয় বহু গন্যমান্য ব্যক্তি, আলেম, ছাত্র, শিক্ষক ও ব্যবসায়ি ছাড়াও সর্বন্তরের হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ-কিয়াম শেষে প্রধান অতিথি দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং দরবারের প্রতিষ্ঠাতা কাগতিয়ার গাউছুল আজমের দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন।