তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত: ধর্ষণের পর খুন!

প্রকাশ:| রবিবার, ১২ জুন , ২০১৬ সময় ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

তনুকুমিল্লায় কলেজ ছাত্রী তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ ও ধর্ষণ প্রশ্নে অস্পষ্টতা রেখেছে চিকিৎসকরা। তবে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান কামদা প্রসাদ সাহা জানিয়েছেন, তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ‘সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স’র প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আজ রোববার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি। এর আগে, প্রায় আড়াই মাস পর তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সিআইডি’র কাছে হস্তান্তর করে ময়নাতদন্তকারী বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তবে এ ব্যাপারে সিআইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দলের প্রধান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, মৃত্যুর পূর্বে তার সাথে ‘সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স’ হয়েছে। যেহেতু দশ দিন পর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে, মৃতদেহ পচা ছিল, দশ দিন পর পচা গলা মৃতদেহ থেকে নতুন করে কোনো ইনজুরি বোঝা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও তনু হত্যার কারণ উল্লেখ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের মা। এছাড়া, মামলাটি ভিন্নখাতে নেয়ার অপচেষ্টার কারণেই এমন অসম্পূর্ণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লার গণজাগরণ মঞ্চের নেতারা।

প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকায় ডিবি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত লাশ উত্তোলন করে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। তনুর মৃতদেহের ডিএনএ পরীক্ষা করে সিআইডি। এতে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়।

গত ৭ মে এই ডিএনএ প্রতিবেদন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান কামদা প্রসাদ সাহার কাছে হস্তান্তর করে সিআইডি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জমা দিল মেডিকেল বোর্ড।

প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মৃতদেহ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।