তদন্ত প্রতিবেদন পেশ: চবির মামুন হত্যায় পুলিশকে দুষলেন তৎকালীন প্রক্টর

প্রকাশ:| বুধবার, ৭ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:২৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে শাহ আমানত হল শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসাইন হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি।

সম্প্রতি তদন্ত কমিটির প্রধান বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন।

অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষে মামুন হোসাইন নিহত হওয়ার ঘটনায় আমরা সম্প্রতি তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছি। প্রতিবেদনে সংঘর্ষ এড়াতে তিনদফা সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে কোন সংগঠনকে দোষী করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন ছাত্রসংগঠনকে এককভাবে দোষী করা হয়নি, আমরা কেবল ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিন দফা সুপারিশ দিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ‍কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে, এখনো পর‌্যন্ত প্রতিবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা কমিটি ও সিন্ডিকেটে পেশ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ ধরণের হত্যাকাণ্ড এড়াতে কমিটি তিন দফা সুপারিশ করেছে। সুপারিশগুলো হলো- শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যথাযথ বাচাই এর মাধ্যমে হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিশ্চিত করে হলে শিক্ষার্থীদের সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করা, হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারষ্পরিক আস্থা সৃষ্টির জন্য কাউন্সিলিং করা এবং হলে পরষ্পর বিরোধী ছাত্রদের মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করা।

তদন্ত কমিটির দীর্ঘ অনুসন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালিন প্রক্টর, শিক্ষক, পুলিশসহ সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া দুই সংগঠন ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের স্বাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষে শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার জন্য তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড.খান তৌহিদ ওসমান একটি ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের সশস্ত্র অবস্থানের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের কর্তব্যে অবহেলাকে দায়ী করেছেন।

তিনি কমিটিকে বলেন, পুলিশের অবহেলার কারণেই উভয় ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ সর্বশক্তি দিলে সংঘর্ষ এড়ানো যেত।

সহকারি প্রক্টররা কমিটিকে জানায়, শাহ আমানত হলের পাশ দিয়ে ছাত্রলীগের মিছিল যাওয়ার সময় হলের ভেতরে কোন কিছুর বিস্ফোরণ ঘটার পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

তারা বলেন, ছাত্রলীগের তৎকালীন দফতর সম্পাদক জালাল আহমেদকে ১১ জানুয়ারি গ্রামের বাড়ীতে বেড়াতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার পর ঘটনার প্রতিবাদে ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল বের করে ছাত্রলীগ।

মিছিলটি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ প্রদক্ষিণ করে শাহ আমানত হলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হলের ভেতর কোন কিছুর বিষ্ফোরণ ঘটে।

এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা শাহ আমানত হলের ভেতর তল্লাশির জন্য পুলিশের কাছে দাবি জানান। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে পুলিশ হলে তল্লাশি চালিয়ে ১৯ জনকে আটক করে। ১৯ জনকে আটক করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য হলগুলো থেকে শিবির মিছিল নিয়ে শাহ আমানত হলের দিকে আসছে এমন গুজব থেকেই সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়।

তদন্ত কমিটির পর‌্যবেক্ষণে বলা হয়, বিকেল চারটা থেকে সাড়ে চারটার দিকে উভয় সংগঠনের কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী শাহ আমানত হলের পশ্চিম পার্শ্বে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে উভয় সংগঠনের বেশকিছু নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে চার শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে শাহ আমানত হলের শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মামুন হোসাইন মৃত্যু বরণ করেন।

তদন্ত কমিটি বেশ কয়েকদফা শাহ আমানত হল পরিদর্শন এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পথচারীদের কাছ থেকে সাক্ষাতকার গ্রহন করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করেছে।

গত বছরের ১২ জানুয়ারি সংঘর্ষে শিবির নেতা মামুন নিহত হওয়ার পরদিন ঘটনার তদন্তে বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন ও সহকারী প্রক্টর অহিদুল আলম।