তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তা হবে আত্মহত্যার শামিল

প্রকাশ:| রবিবার, ২১ জুলাই , ২০১৩ সময় ১১:৪১ অপরাহ্ণ

বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচনের অনুকূলে নয় উল্লেখ করে আগামী নির্বাচন হবে কীনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ও কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ। oli

এলডিপি’র চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা শাখা আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। রোববার নগরীর লেডিস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন এলডিপির মহানগর শাখার সভাপতি এম ছলিম উল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১৮দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা অলি আহমদ বলেন, ‘আগামীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সত সরকার গঠন করা হবে। এ সরকারের অবস্থান হবে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে।’

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তৃণমূল পর্যায়ে ১৮ দলীয় জোটকে শক্তিশালী করার আহবান জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তা হবে আত্মহত্যার শামিল।’

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় নির্বাচনের জন্য আগামী তিন-চার মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কারাগারে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখার আহবান জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হবে। বিরোধী দলীয় নেত্রী নয়, এবার কারাগারে যাওয়ার পালা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতাদের।’

দেশকে অরাজক পরিস্থিতি রেখে প্রধানমন্ত্রী জান নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেন অলি আহমদ।

তিনি বলেন,‘দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রত্যাখান করেছে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে।। তারা আপনার সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছে।’

সরকার ও মন্ত্রিসভার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দলের দক্ষ, যোগ্য, প্রজ্ঞাবান ও অভিজ্ঞ লোকদের মূল্যয়ন না করে দেশ ধ্বংসের জন্য অদক্ষ, অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজদের মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দিয়েছেন।’

অলি আহমদ অভিযোগ করেন, ‘ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের জন্য অর্থনীতির বিষয়ে জ্ঞান না থাকা সত্বেও ছাত্রলীগ-যুবলীগের ছেলেদের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালক পদে বসানো হয়েছে। তাদের লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি আজ হুমকির মুখে।’

ইফতার মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, জামায়াতে ইসলামের মহানগর শাখার আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, সাবেক এমপি রোজী কবির, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান, এলডিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি এড. কফিল উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আহমেদ খলিল খান, জিয়াউল হক চৌধুরী, জামায়াতের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেষ্ঠ্য শিক্ষক অধ্যাপক এম এ গফুর প্রমুখ।

জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, সে আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হবে।’

জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘জাতি গণতন্ত্রের জন্য বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে। এর বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার জন্য আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।


আরোও সংবাদ