ঢাকের বাদ্য-কাঁসার ঘণ্টায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সৈকত

প্রকাশ:| শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ সময় ০৯:৩২ অপরাহ্ণ

প্রায় সব মন্দির প্রাঙ্গনেই দেখা মিলেছে নানা কর্মসূচি উদযাপনের দৃশ্য। শেষবারের মতো মাকে দর্শন, … তারপর নবস্তোত্র, প্রদক্ষিণস্তোত্র, চণ্ডীস্তোত্রে দেবী দুর্গার দর্পন বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। আনন্দ আর বেদনার মিশ্র অনুভূতিতে চট্টগ্রামে বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাল ভক্তকূল।

 

শনিবার দুপুর থেকেই নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে দেবীকে বিদায় জানাতে জড়ো হন হাজারো ভক্ত।

শিশু-কিশোর-তরুণ-যুবক- সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয় সৈকত প্রাঙ্গণ। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাড়া থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনের জন্য জড়ো হতে থাকেন পতেঙ্গা সৈকতে।

ঢাকের বাদ্য-কাঁসার ঘণ্টায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সৈকত এবং আশপাশের এলাকা। চারদিনের আনন্দ শেষে অশ্রুসজল নয়নে হিন্দু ভক্তরা বিদায় দেন মা দুর্গাকে।

শনিবার সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে বিজয়া দশমীর অঞ্জলী গ্রহণের মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকালে থেকে মহানগরীর মন্দিরগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে সিঁদুর শুভক্ষণ ও শান্তিজল গ্রহণের জন্য রমনীদের ভিড়।

মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে নারীদের সিঁদুর খেলা। নারীরা তাদের এবং পরিবারের কল্যাণে এই ধর্মীয় আচার পালন করেন। এছাড়া একে অপরকে আলিঙ্গণ করে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান।

লাল সিঁদুর দেবী দুর্গার পায়ে নিবেদন করে সেই সিঁদুর পা থেকে তুলে নিয়ে সিঁথিতে দিয়ে আগামী দিনের জন্য শুভ কামনা করা হয় মন্দিরে মন্দিরে। এর পরই ভক্তদের মনে বেজে ওঠে বিদায়ের সুর। এরপর হিন্দু নর-নারীদের সিঁদুরখেলা এবং সিঁদুর পড়ানোর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়।
বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে ট্রাকে করে দেবীকে নিয়ে বিসর্জনের উদ্দেশ্যে ভক্তকূল রওনা দেয় পতেঙ্গা সৈকতে উদ্দেশ্যে।

নগরীর ঘাটফরহাদবেগ, দেওয়ানজী পুকুর লেইন, রাজাপুর-মোমিন রোড, রাজাপুকুর লেইন, এনায়েত বাজার, জামালখান, হাজারি গলি, টেরি বাজার, রামকৃঞ্চ মিশন, আসকার দীঘির পাড় এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

হিন্দু পঞ্জিকামতে এবারে দেবী দুর্গা নৌকায় এসে ঘোটকে (ঘোড়া) কৈলাসে ফিরে গেছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরবিন্দ পাল অরুণ জানান, এবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পতেঙ্গা সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে।

ক্যামেরা সাংবাদিক বাবুন পাল বলেন, সিঁদুর খেলার আগে-পরে কিছু নিয়ম রয়েছে। বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। দিনটি শেষ হয় মহাআরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম শেষ হয়।

প্রতিমা বিসর্জনকে সামনে রেখে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া প্রতিমা বিসর্জন শেষ হয়েছে উল্লেখ করে পতেঙ্গা থানার ওসি আবুল কাশেম ভূইয়া রাত আটটার দিকে জানান, প্রতিমা বিসর্জন দিতে আসার পথ ও সৈকত এলাকায় ছয়শ পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছে।

এছাড়া র্যা বসহ অন্যান্য বাহিনীও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, এবারে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৬৬টি পূজা হয়েছে। এর অধিকাংশই প্রতিমা বিসর্জন দিতে এসেছে পতেঙ্গা সৈকতে।

এর বাইরে ফিরিঙ্গী বাজার অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট কর্ণফুলী নদীর পাড় ও কাট্টলী বিচে কয়েকটি এলাকার প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষ্যে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনি।

অন্যান্যের মধ্যে কাউন্সিলর সালেহ আহমদ চৌধুরী, জয়নাল আবেদিন ও নিলু নাগ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদারসহ পূজা পরিষদের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।


আরোও সংবাদ