ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে চলন্ত ট্রেনে মাসে প্রায় অর্ধশত পাথর নিক্ষেপের ঘটনা

প্রকাশ:| শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ১০:০২ অপরাহ্ণ

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে চলন্ত ট্রেনে মাসে প্রায় অর্ধশত পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। বছরে এ সংখ্যা প্রায় ৬০০। হতাহত হচ্ছেন অনেক যাত্রী। দুর্বৃত্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে আতঙ্কিত যাত্রীরা। ক্ষতি হচ্ছে রেলওয়ের সম্পদের। রেলওয়ের জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগে সুফল মেলেনি। এ ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত চিফ অপারেটিং সুপার ওমর ফারুক জানান, পুরো রেলপথে মাসে অর্ধশত পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। দুর্বৃত্তদের আটকের দায়িত্ব রেল পুলিশের। কিন্তু তারা ধরা পড়ছে না। এতে যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করা যাচ্ছে না। সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে প্রতিদিন আট জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনের পাশাপাশি প্রচুর সংখ্যক লোকাল ট্রেনও চলাচল করে। এ পথের প্রায় পুরো অংশেই দুর্বৃত্তরা সক্রিয়। তবে রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ রেলপথের ডেঞ্জার জোন হিসেবে কিছু এলাকাকে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ভাটিয়ারি থেকে ফেনী পর্যন্ত ৭৫ কিলোমিটার এবং কুমিল্লা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার বিপজ্জনক জোন। এখানেই সবচেয়ে বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, পাথর নিক্ষেপে শুধু জানমালের ক্ষতি হয় না, রেলওয়ের সম্পদের বিপুল ক্ষতি হয়। কোনো কোচের একটি গ্লাস ভাঙা হলে ক্ষতি হয় ১০ হাজার টাকা। কোচের গ্লাস মেরামত না করা পর্যন্ত ট্রেনে যুক্ত করা যায় না। এতে রেলওয়ে ভাড়া বাবদ আয় থেকেও বঞ্চিত হয়। তাদের মতে, প্রচারণা চালালেও নিবৃত্ত হয়নি পাথর নিক্ষেপকারী দুর্বৃত্তরা। গত বছরের ১০ আগস্ট রাত সোয়া ১১টায় সীতাকুন্ডে চলন্ত তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথরের আঘাতে নিহত হন প্রকৌশলী প্রীতি দাশ। উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদামবিবির রেলওয়ের ভাঙা ব্রিজ এলাকায় দুর্বৃত্তরা ট্রেনে পাথর ছুড়ে তাকে হত্যা করে। চট্টগ্রাম থেকে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে প্রীতি স্বামীর সাথে যাচ্ছিলেন ঢাকা। এ খুনের ঘটনার প্রায় এক বছর পার হয়েছে। কিন্তু রেল পুলিশ এখনও নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এ ঘটনার পর চট্টগ্রাম রেলপুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় কয়েক ব্যক্তির নামে জিআরপি থানায় মামলা করে। এর পর পরই ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সন্দেহজনক দুজনকে আটকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেয়া হয়। ওই দুজনের কাছ থেকেও তথ্য মেলেনি। পরে তাদেরও ছেড়ে দেয়া হয়। অধরা রয়ে যায় প্রীতি দাশের খুনি পাথর দুর্বৃত্তরা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম রেল পুলিশের ডিবি (ওসি) স্বপন বড়ুয়া জানান, রাতের অন্ধকারে ঘটনা সংঘটিত হওয়ায় এ মামলার কার্যক্রম তদন্ত করতে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও চলছে।

এদিকে ভাটিয়ারী এলাকায় চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ে মেরে যাত্রী হত্যার এক বছর পরও সীতাকুন্ডের ফৌজদারহাট স্টেশন, কুমিরা, বাড়বকুন্ড, বাঁশবাড়ীয়া ও পন্থিছিলা এলাকায় আতঙ্ক কাটেনি। রাতের অন্ধকারে চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতের আতঙ্ক তাড়া করছে ট্রেন যাত্রীদের মধ্যে। ওই ঘটনা প্রসঙ্গে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তখন সারা বাংলাদেশে নাশকতা চলছিল। আর রাতের বেলায় কে পাথর ছুড়ে মেরেছে তা বলা মুশকিল। তবে ওই ঘটনার পর আরও দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে। কিন্তু পাথর নিক্ষেপকারী দুর্বৃত্তরা ধরা পড়েনি।

>>সাইফুদ্দিন তুহিন এর প্রতিবেদনটি অালোকিত বাংলাদেশে প্রকাশিত