ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুই নতুন ল্যাবরেটরী

প্রকাশ:| সোমবার, ২২ জুন , ২০১৫ সময় ১১:৩২ অপরাহ্ণ

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিএসটিআইয়ের অধীনে দুইটি নতুন ল্যাবরেটরী নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ‘ইম্প্রুভিং ফুড সেফটি অব বাংলাদেশ কার্যক্রমের সিনিয়র ন্যাশনাল অ্যাডভাইজার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন।

সোমবার দুপুরে নগরীর সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘রোল অব মিডিয়া ইন ফুড সেফটি অ্যান্ড এনশিয়রিং রাইটস অব কনজ্যুমারস’ শীর্ষক সংবাদিক কর্মশালায় তিনি এ কথা জানান।

বাংলাদেশ ফুড সেফটি নেটওয়ার্ক (বিএফএসএন) ও কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

ডা. শাহ মনির হোসেন বলেন, ‘দেশে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং পরীক্ষাকারী সরকারি সংস্থা বিএসটিআইয়ের আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে নতুন দুইটি পরীক্ষাগার স্থাপন করা হচ্ছে। এডিবি এতে অর্থায়ন করছে।’

নুডলস ম্যাগিতে সীসা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতে সীসা পাওয়া গেছে।আমাদের এখানে পাওয়া যায়নি।’
ল্যাবরেটরী
এ বক্তব্যের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করে উপস্থিত এক সাংবাদিক বলে উঠেন, ‘বাংলাদেশের ম্যাগিতেও সীসা পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি এক প্রতিবেদনে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কেও জানিয়েছে।’

এর জবাবে ‘হ্যাঁ’ সূচক মাথা নেড়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বন্ধ করতে গেলে কিছু সমস্যা হয়, তা আপনারা তো বুঝেন। এখানেও নিষিদ্ধ হতে পারে।’

সভার সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে আমে ফরমালিন নেই বললেই চলে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় বড় আমের বাগানগুলোতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।যাতে বাগান মালিকরা অপরিপক্ক আম পাড়তে না পারে। এতদিন ছোট সাইজের আম পেড়ে কার্বাইডসহ নানান কিছু দিয়ে পাকানো হত। কিন্তু এখন তা সম্ভব না হওয়ায় আম এখন ফরমালিনমুক্ত।’

ডিসি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে পাহাড়তলী থানা পুলিশ ফরমালিনযুক্ত সন্দেহে কিছু আম ধরেছিল। পরে বিএসটিআই ও ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে পরীক্ষা করে দেখে যে, সেখানে ফরমালিন নেই। পুলিশ সন্দেহ করে ধরেছিল এসব আম। এসব কিন্তু ভাল লক্ষণ।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘গত রাতে কাজ শেষ করে একটি টিভি চ্যানেলে টকশো দেখছিলাম। সেখানে বিএনপির নেতা এডভোকেট আজম বলেন সরকার বাগান মালিকদেরকে আম পাড়তে দিচ্ছে না। আমের উপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।এসব শুনে আমার হাসি পেয়েছিলো।’

মিনারেল ওয়াটার প্রস্তুতকারী অধিকাংশ প্রতিষ্টানের লাইসেন্স নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ যে পানি পান করছে সেটাও নিরাপদ না। মিনারেল ওয়াটার প্রস্তুতকারী ৭টি প্রতিষ্টান বন্ধ করেছি। এসব প্রতিষ্টানে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘রিয়াজ উদ্দিন বাজারে ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করায় কাঁচামরিচের দাম ৫৫-৬০ থেকে নেমে ১৮-২০ টাকায় চলে আসলো। আমরা তাদেরকে ১৮টাকায় বিক্রি করতে বলিনি। তারা নিজেরাই এই রেটে বিক্রি করেছে। ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে গেলে দাম কমে যায়, এটা কি নৈতিকতা?’

ক্যাব কেন্দ্রিয় কার্যকরী পর্ষদ সদস্য এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘দেশে কিডনি, লিভার ও ক্যান্সার রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে খাদ্যে এসব বিষাক্ত রাসায়নিক বা ভেজালের উপাদান প্রয়োগ। সরকারের উচিত এই গবেষণার আলোকে কালবিলম্ব না করে খাদ্যে বিষ প্রয়োগ বন্ধে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া। নয়তো এসব বিষাক্ত উপাদান থেকে দেশে মানবদেহে বেশ কিছু দুরারোগ্য রোগের মহামারি পরিস্থিতি দেখা দেবে।’

ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে। আমরা অনেক সময় প্রশাসনের সহযোগিতা পাই না। এরপরও চট্টগ্রামের বর্তমান জেলা প্রশাসকের সময়ে কিছু ভাল কাজ হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের দিক থেকে আরো কঠোর হতে হবে। ’

কর্মশালায় খাদ্য নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রবন্ধউপস্থাপন করেন ফাও এর চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. জন রাইডার, সিনিয়র ন্যাশনাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ডা. শাহ মুনির হোসেন, ফাও চিফ এক্সিকিউটিভ অ্যালেন রিলি, ফুড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) ফুড সেফটির সিনিয়র ন্যাশনাল এ্যাডভাইজার ড. রোকেয়া খানম, খাদ্য বিশ্লেষক ড. মার্গারিটা কোরালেস।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. এম সরফরাজ খান চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, সুপ্রভাত বাংলাদেশের সিটি এডিটর এম নাসিরুল হক প্রমুখ।

কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের অর্ধশত সংবাদকর্মী অংশগ্রহণ করেন।


আরোও সংবাদ