ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে ঐক্য প্যানেল’র বিজয়

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

ঢাকা বারের (আইনজীবী সমিতি) ২০১৫-১৬ বর্ষের নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২০টি পদে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থীরা বিপুল বিজয় লাভ করেছেন। এছাড়া বাকি ৫টি পদে জিতেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা। তবে সবুজ প্যানেল থেকে কেউই বিজয়ী হতে পারেননি।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম আলতাফ হোসেন এ ঘোষণা দেন।
সভাপতি মাসুদ, সম্পাদক ফারুকী
নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন নীল প্যানেলের মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার। তিনি সাদা প্যানেলের সাইদুর রহমান মানিককে ২৩০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। মাসুদ আহমেদ তালুকদার পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৬২ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের ওমর ফারুক ফারুকী ৫৮৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন সাদা প্যানেলের মো. আয়ুবুর রহমানকে। ফারুকী ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৪৩ ভোট।

এছাড়া ১০টি সম্পাদকীয় পদের আটটিতেই বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। কেবল সিনিয়র সহসভাপতি ও ট্রেজারার পদে জিতেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের প্রার্থী।

সহসভাপতি পদে নীল প্যানেলের হারুন রশীদ খান ৪ হাজার ৫৭৭, সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক পদে হাফিজুর রহমান হাফিজ ৪ হাজার ৪২৪, সহসাধারণ সম্পাদক পদে তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ ৪ হাজার ৮১৬, লাইব্রেরি পদে মাজেদুর রহমান মামুন ৪ হাজার ৮৯২, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আকলিমা আক্তার আলো ৪ হাজার ৩৬৬ ও দপ্তর সম্পাদক পদে শেখ আলাউদ্দিন ৪ হাজার ৬৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

সিনিয়র সহসভাপতি পদে সাদা প্যানেলের মোশারফ হোসেন ৪ হাজার ৪৭৩, ট্রেজারার পদে সাদা প্যানেলের মকবুল হোসেন নীল প্যানেলের মো. আবু বাক্কার সিদ্দিককে ৩১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। মকবুল হোসেন ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৪৩ ভোট।

এছাড়া ১৫টি সদস্য পদের মধ্যে ১২টিতেই জিতেছেন নীল প্যানেলের (বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত) প্রার্থীরা। সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা জিতেছেন মাত্র ৩টি পদে।

নীল প্যানেল (বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত) থেকে সদস্য পদে বিজয়ীরা হলেন, মোহাম্মাদ আব্দুল হান্নান খন্দকার, মোহাম্মাদ বিল্লাল হোসেন, মজিবর রহমান, ফাতিমা ইয়াসমিন, মিজানুর রহমান মিজান, শাহনাজ পারভীন জোসনা, মোস্তফা কামাল খান, শাহ আলম, মোহাম্মাদ আবুল কাশেম, মোহাম্মাদ কামাল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, রেহানা পারভীন।

অপরদিকে সাদা প্যানেল (আওয়ামী লীগ সমর্থিত) থেকে তপো গোপাল ঘোষ, ফাতেমাতুজ জহুরা মনি, লিলিয়া আক্তার লিলি।

নির্বাচনী ফলাফলের এমন বিপর্যয় দেখে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষিত হওয়ার আগে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই আদালত অঙ্গন ত্যাগ করতে শুরু করেন সাদা প্যানেলের অধিকাংশ প্রার্থী, কর্মী-সমর্থক ও আইনজীবী নেতারা। তবে সাদা প্যানেলের বিজয়ীরা ফলাফল ঘোষণার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোট গণনা স্থলে হাজির ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০১৫-১৬ বর্ষের দুদিনব্যাপী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৫টি পদের বিপরীতে এবারের নির্বাচনে ৬১ জন প্রার্থী অংশ নেন।

এতে ১৫ হাজার ৩৭২ জন ভোটারের মধ্যে ৯ হাজার ৯২ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

নির্বাচনের মাসখানেক আগে থেকেই উভয় প্যানেলের প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেন।
ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ ছাড়াও লিফলেট, কার্ড, এসএমএস, ভয়েস এসএমএম, ফেসবুক, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারসহ মোবাইলে ফোন করেও জোর প্রচারণা চালান প্রার্থীরা।

গত ২০১৪-১৫ বর্ষের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। ২৫টি পদের বিপরীতে তারা মাত্র ছয়টি সদস্য পদ পায়। অপরদিকে সম্পাদকীয় পদের ১০টিসহ বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেল ১৯টি পদে জয়লাভ করে।

এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম আলতাফ হোসেন। নির্বাচনে ছয়জন কমিশনার অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম হিরন, অ্যাডভোকেট হাজী মো. মোহসীন, অ্যাডভোকেট আহমদ উল্লাহ আমান, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর, মো. শামসুজ্জামান, মো. মতিউর রহমান ভূঁইয়াসহ নির্বাচন কমিশনের ৮৬ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।


আরোও সংবাদ