ঢাকায় আসতে আর্জেন্টিনার আগ্রহ

প্রকাশ:| রবিবার, ৪ আগস্ট , ২০১৩ সময় ১১:২৪ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ভবন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় বেজে ওঠে arzentenaতার মুঠোফোন। অন্যপ্রান্তে থাইল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি ওরাউই মাকুদির কণ্ঠে জিজ্ঞাসা, ‘কাজী, আর্জেন্টিনা ম্যাচ খেলতে ব্যাংকক আসবে। ওরা ঢাকায় আসতে চায়। তুমি কি তাদের ঢাকায় নিতে রাজি?’

আর্জেন্টিনার মতো দল নিজেরা যোগাযোগ করে ঢাকায় আসতে চায়! বাফুফে সভাপতির সম্মতি না দেয়ার কোনো কারণ নেই। একটা ম্যাচ ফুটবল বিশ্বে পাল্টে দিয়েছে বাংলাদেশের পরিচিতি। অথচ ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়ার ফিফা ম্যাচটা না হলে এমনটা হতো না, নিশ্চিত। দুই বছর আগে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সে ম্যাচের সফল আয়োজনেই আর্জেন্টিনার আগ্রহ। যোগাযোগ করেছে তারা থাইল্যান্ডের মাধ্যমে। মাকুদিকে তারা অনুরোধ করেছে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে কথা বলার জন্য। তবে মেসিদের ব্যাংকক সফরটা কবে তাৎক্ষণিকভাবে সেটা জানা হয়নি সালাউদ্দিনের।

দুই বছর আগে আর্জেন্টিনাকে ঢাকায় আনতে ৪০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বাফুফের। এবার অবশ্য খরচটা কম হওয়ার কথা। এমনটা স্পষ্ট। কিন্তু টাকার অঙ্কটা নিশ্চিতভাবে জানার পর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন বলে জানালেন বাফুফে সভাপতি। এটা বললেন কাজী সালাউদ্দিনও, ‘আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়ার ম্যাচটা ভেন্যু হিসেবে আমাদের পরিচিতি বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই এখন আর্জেন্টিনাকে ঢাকায় আনার বিষয়টা অসম্ভব না। সমস্যাটা টাকার। শুধু তাদের নয়, টাকা থাকলে বিশ্বের যে কোনো দেশকে ঢাকা আনা যাবে। টাকার অঙ্কটা সাধ্যের মধ্যে থাকলে প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাব।’ আর্জেন্টিনাকে আনার সময় নিয়ে সমস্যা হবে না মনে করছেন তিনি। জানালেন, ‘আর্জেন্টিনাকে আনা তো মাত্র তিন দিনের বিষয়। ১১ সেপ্টেম্বর শেষ হবে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। এরপর শেষ সপ্তাহে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট। এর মধ্যেই তাদের নিয়ে আসা সম্ভব।’ সেটা হলেও দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকায় আসবে লাতিন দলটি।

তবে লাতিন পরাশক্তির প্রতিপক্ষ হিসেবে বিদেশি কোনো দলকে আনতে চান না কাজী সালাউদ্দিন। জানালেন, ‘এবার অন্য কোনো দেশ না, বাংলাদেশকে খেলিয়ে দেব। পাঁচ-ছয় গোল খেলেও সমস্যা দেখি না। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ খেললে আমাদের ছেলেরা মানসিকভাবে আরও বেশি উজ্জীবিত হবে। আত্মবিশ্বাস বাড়বে।’ সেটা হলে তো মামুনুল, এমিলি, ওয়ালী, মিঠুনদের জন্য ‘বিশাল’ ব্যাপার হয়ে উঠবে। ১৯৮৩ সালে মালয়েশিয়ার মারদেকা কাপে আর্জেন্টিনা একাদশ নামের একটা দলের বিপক্ষে ২-৫ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। গোল দুটি করেছিলেন আশরাফউদ্দিন চুন্নু ও শেখ মোহাম্মদ আসলাম।

প্রসঙ্গত এর আগে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা থেকেও যোগাযোগ করা হয়েছিল বাফুফের সঙ্গে। সেটা বেশি দূর গড়ায়নি বিপুল খরচের কথা ভেবে বাফুফে পিছিয়ে যাওয়ায়। তবে আর্জেন্টিনার বিষয়টাকে ‘অন্য’ভাবে দেখতে চান কাজী সালাউদ্দিন। সফল আয়োজক ভেন্যুর পরিচিতি পাওয়ার পর আর্জেন্টিনার আগ্রহ প্রকাশটাকে এদেশের ফুটবলের জন্য বড় কিছু মনে করছেন তিনি।