ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’ উদ্বোধন

mirza imtiaz প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর , ২০১৮ সময় ০১:৩০ পূর্বাহ্ণ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’ বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার পর প্রধানমন্ত্রী কেক কাটেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে ড্রিমলাইনারের একটি মডেল উপহার দেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) ইনামুল বারী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমি একটি বিমান পেলাম। এ বিমানে কি লন্ডন যাওয়া যাবে?’

বিমানকর্মীদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানের সঙ্গে যারা কর্মরত, প্রত্যেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। যেন কোনও বদনাম না হয়। আমাদের দেশের যেন সুনাম হয়। আমরা নতুন বিমান সংযোজন করছি। বিমান যেন ভালোভাবে চলতে পারে। সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক দেশ আমাদের ওপর নিষেদ্ধাজ্ঞা দিয়েছিল। আমরা সেগুলো দূর করতে সক্ষম হয়েছি। নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে।  যখন কোনও বিদেশি আসেন বা যান কিংবা প্রবাসীরা যখন আসেন, তারা যেন দ্রুত ব্যাগেজ খালাস করে চলে যেতে পারেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পাদন করতে হবে।’

নতুন বিমানের নামকরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখনই নতুন বিমান এসেছে, চেষ্টা করেছি, তারই একটি নতুন নাম দিতে। আরও যে বিমানগুলো আসবে, সেগুলোও নাম রাখা হয়েছে।’

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভৌগলিক কারণে কক্সবাজার হাব হয়ে উঠবে। যোগোযোগ একটি দেশের জন্য অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের আকাশপথ, রেলপথ, সড়কপথ—সবগুলো যোগোযোগ ব্যবস্থা যেন উন্নত হয় সেজন্য আমরা বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী ড্রিমলাইনারের সামনে ফিতা কাটেন এরপর নতুন ড্রিমলাইনারের ভেতরে ঘুরে দেখেন। ড্রিমলাইনারে ককপিটে গিয়েও পাইলটদের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা। এ সময় ককপিটে ছিলেন বিমানের চিফ অব ফ্লাইট সেফটি ক্যাপ্টেন শোয়েব চৌধুরী ও ফার্স্ট অফিসার মুনজেরিন রায়ান। তারা প্রধানমন্ত্রীকে ড্রিমলাইনারের ককপিটের হেড আপ ডিসপ্লেসহ বিশেষত্ব সম্পর্কে অবগত করেন। যাত্রীদের সুবিধার জন্য যেসব ব্যবস্থা রয়েছে তাও উল্লেখ করেন পাইলটরা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাজাহান কামাল। এছাড়া, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহম্মাদ এনামুল বারী, বেসাসরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, তিন বাহিনী প্রধান, বিদেশি কূটনীতিকসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন