ডেট্রয়েট দেউলিয়া!

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৯ জুলাই , ২০১৩ সময় ০২:১২ অপরাহ্ণ

ঋণে জর্জরিত যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহর নিজেকে দেউলিয়া দাবি করেছে। এ বিষয়ে মিশিগান রাজ্য সরকারের ‍কাছে আবেদন যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরকরেছে শহর কর্তৃপক্ষ। ডেট্রয়েট দেউলিয়া ঘোষিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বৃহৎ একটি শহর দেউলিয়া হওয়ার ঘটনা ঘটবে।

ডেট্রয়েটের এমার্জেন্সি ম্যানাজার কেভিন অর শহরের বন্ডহোল্ডার ও পেনশন তহবিল নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করতে ব্যর্থ হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেন।

অর আমানতকারীদের প্রতি ডলারের বিপরীতে মাত্র ১০ সেন্ট গ্রহনের প্রস্তাব দেন। সরকারি অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের বাধার মুখে রুখে যায় অরের প্রস্তাব।

বৃহস্পতিবার প্রেস ব্রিফিংয়ে অর ‍জানান, শহরকে পুনরায় সচল করতে ‘দেউলিয়াত্বের আবেদন’ প্রথম ধাপ।
মিশিগানের গর্ভনর রিচার্ড স্নাইডার কেবিন অরের আবেদনপত্র পাওয়‍ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এটি স্পষ্ট যে এ ধরনের (দেউলিয়ার আবেদন) প্রক্রিয়ার বাইরে ড্রেটয়েটের অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি সফলভাবে সমাধান করা যাবে না। আর এটাই হচ্ছে একমাত্র যৌক্তিক সহজলভ্য বিকল্প।

জেফারশন কাউন্টি, অরেঞ্জ কাউন্টির অতীত রেকর্ড ভেঙে ফেলতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এক সময়ের শিল্পায়নের প্রতীক। অতীতে ডেট্রয়েটের মতো এতো বড় শহরে লালবাতি জ্বলেনি!

১ হাজার ৮৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ বা দায় বহনে শহর কর্তৃপক্ষ সমর্থ কিনা-তা এখনও নির্ধারিত হবে আদালতে। যুক্তরাষ্ট্রের দেউলিয়াত্ব বিধির ৯ নাম্বার চ্যাপ্টারের আওতায় ডেট্রয়েটের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন আদালত।

৯ নাম্বার চ্যাপ্টারের আওতায় এর আগে ১৯৯৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি ও ২০১১ সালে আলবামার জেফারসন কাউন্টিকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়। এ চ্যাপ্টার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পৌরসভা পুনর্গঠনে পদক্ষেপ নিতে পারে। ধার বা দেনা শোধ আওতাভুক্ত নয় এ চ্যাপ্টারে। পৌর কর্তৃপক্ষ করের হার বাড়াতে ব্যবস্থা নিতে পারে।

কয়েক দশক ধরে অব্যবস্থাপনা আর শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়া সমস্যার ঘোরাপাক খাচ্ছে ডেট্রয়ট। ওয়াশিংটন থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানান, শহরের সরকারি চাকরি প্রায় ধসের কাছে। ৭০ হাজার প্রপার্টি পরিত্যক্ত।
তবে ডেট্রয়েট মেয়র ডেভ বিং সরকারি সেবা অব্যাহত রাখার এবং সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন।

এক সময়ে বিকাশমান অটোমোবাইল শিল্পের জন্য ‘মোটর সিটি’ খেতাবধারী ডেট্রয়েট কর্তৃপক্ষ শহরের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে গত মাসে ঋণ পরিশোধ বন্ধ করে দেয়। ওই সময় মিশিগান রাজ্যনিয়োজিত এমার্জেন্সি ম্যানাজার অর আমানতকারীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালান।