ডিসি হিলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে কঠোর আন্দোলন

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ০৯:৫৯ অপরাহ্ণ

সংস্কৃতি চর্চার প্রাণকেন্দ্র ডিসি হিলে অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে ‘সংস্কৃতিপর্ষদ চট্টগ্রাম’র নেতারা। পাশাপাশি ডিসি হিলে বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসব পালনের অনুমতি দেওয়া না হলে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারকে তাদের বাসভবনে যেতে দেওয়া হবে না বলেও হুশিয়ার দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সংস্ক‍ৃতিসেবীদের সংগঠন ‘সংস্কৃতিপর্ষদ চট্টগ্রাম’ সংগঠনের পক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃত্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের চেতনাকে প্রজন্ম পরম্পরায় ধারণের উদ্দেশ্যে দেশের বৃহত্তম দ্বিতীয় রাজধানী চট্টগ্রামে পঞ্চম বারের মত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসব অনুষ্ঠান পালনের অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়। বুধবার (০৬ ডিসেম্বর) এ আবেদন নাকচ করায় ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মীরা। প্রতিবাদে শুক্রবার (০৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় নগরীর ডিসি হিল চত্ত্বরেই প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে।

‘সংস্কৃতিবান্ধব সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার ষড়যন্ত্র করছেন। যখন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও আগ্রহে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ডিসি হিলকে নিয়ে সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে। তখন ডিসি হিলে ‘বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসব’ পালনের অনুমতি না দেওয়া একটি চক্রান্ত। চক্রান্তের হোতা জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কাম্য।’

বিবৃতিদাতারা হলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজন প্রফেসর ড. অনুপম সেন, বরেণ্য কবি ও সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্ত, মুক্তিযোদ্ধা ও সাহিত্যিক বেগম মুশতারী শফী, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সাবেক ডিন ড. জাকির হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক, বিএমএ
চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. হারুন, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রামের সদস্য সচিব আহমেদ ইকবাল হায়দার, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অরুণ চন্দ্র বণিক, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য রণজিৎরক্ষিত, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, উদীচী চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শীলা দাশ গুপ্ত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কুন্তল বড়ুয়া, সনজীব বড়ুয়া, বোধন আবৃত্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পঞ্চানন চৌধুরী, অবসর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী চট্টগ্রামের সভাপতি মো. সঞ্জিত আলম, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসান, অলক ঘোষ পিন্টু, সুচরিত দাশ খোকন, সাংবাদিক প্রদীপ খাস্তগীর, তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, মঞ্চশিল্পী সংস্থার সভাপতি আলাউদ্দিন তাহের, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আজম চৌধুরী টিপু।
ডিসি হিলে বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসব পালনের অনুমতি দেওয়া না হলে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারকে তাদের বাসভবনে যেতে দেওয়া হবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘আমরা চাই না কোন অনাকাক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক। এ ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারকে দায়ী থাকতে হবে।’