ডিসিহিলে বঙ্গবন্ধু বইমেলার অনুমতি প্রদানে বাধা

প্রকাশ:| বুধবার, ৬ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ০৮:৪৯ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আয়োজক পরিষদ
ডিসি হিলে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ডিসেম্বরে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের চেতনাকে প্রজন্ম পরম্পরায় ধারণ করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বিতীয় রাজধানী চট্টগ্রামে ৫ম বারের মত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসবের ৬দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে অনুমতি চট্টগ্রামের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নির্দেশে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এই বইমেলার ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসবের অনুমতি দেওয়ার অপরাগতা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো: জিল্লুর রহমান চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধের এই বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকারও পরেও জাতির পিতার নামে বঙ্গবন্ধু বইমেলার উপর নিষেধাজ্ঞাকে ঐপনিবেশিক শাসনামলের নির্লজ্জ মানসিকতার বহি:প্রকাশ বলে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করে নেয়ার দাবী জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সংস্কৃতি কর্মীরা। বঙ্গবন্ধু বইমেলার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যহারের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিদাতারা বলেন এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা গণবিরোধী কালোকানুন। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে এ দরনের কালোকানুন শুধু মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিকর্মীদেরই নয়, জনগণের অধিকারকেও খর্ব করে। এটা ভয়াবহ অশনি সংকেত। বর্তমান সংস্কৃতিবান্ধব অজ্ঞতা, অজ্ঞানতা ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সুস্থ ধারার সংস্কৃতিচর্চাকে অধিকতর ভাবে প্রসার ও শাণিত করতে উদ্যোগী ঠিক তখনই সংষ্কৃতি সংকোচনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সাংঘর্ষিক। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সংস্কৃতিকর্মীরা উদ্বৃত এই বিরুপ পরিস্থিতি জনগণকে সাথে নিয়েই সামাল দিতে সংকল্পবদ্ধ। চট্টগ্রামের নজরুল স্কোয়ার (ডিসি হিলে) যে কোন ধরনের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও মু্িক্তযুদ্ধের বিজয় উৎসবের অনুষ্ঠান কার্যক্রম অনুমতি প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে বিবৃতি প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক সমাজবিজ্ঞানী একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. অনুপম সেন, বরণ্য বুদ্ধিজীবি কবি ও সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্ত, শহীদ জায়া ও লেখিকা বেগম মুশতারি শফি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসব উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মাহমুদ ইছহাক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, মেলা পরিষদের মহাসচিব দিদারুল আলম দিদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অরুণ চন্দ্র বণিক, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য রঞ্জিত রক্ষিত, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, নাট্যজন অলক ঘোষ পিন্টু, সুচরিত দাশ খোকন, সাংবাদিক প্রদীপ খাস্তগীর, বোধন আবৃত্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পঞ্চানন চৌধুরী, উদীচি চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা শীলা দাশ গুপ্ত, প্রমা আবৃত্তি পরিষদের রাশেদ হাসান, তারুণ্য উচ্ছাসের এড. মুজাহিদুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও ম্ুিক্তযুদ্ধের বিজয় উৎসব উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী খোরশেদ আলম জানান গত ০৮ অক্টোবর‘১৭ইং লিখিতভাবে জেলা প্রশাসকের বরাবরে ডিসি হিল ব্যবহারের অনুমতির জন আবদেন করা হলেও তিনি দীর্ঘদিন আমাদেরকে অনুমতি দিচ্ছি-দেব বলে আশ্বস্থ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের অনুষ্ঠানের শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর এবং ঢাকায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় মন্ত্রী বরণ্য বুদ্ধিজীবি, রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানো হয়ে গেছে। আজ ০৬ ডিসেম্বর‘১৭ইং বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এর পক্ষ থকে জানানো হয় চট্টগ্রামের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নির্দেশে এই অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদান করা যাচ্ছে না। আমরা খুবই মর্মামত হয়েছি যে, বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই জনকের নামে বাংলাদেশের বৃহত্তম ২য় রাজধানী বিপ্লবতীর্থ চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসব ধারাবাহিকভাবে চলে আসছিল। কিন্তু উনার রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও জনপ্রিয়তার উপর ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাদের রাজণৈতিক অভিভাবকতুল্য সেই মন্ত্রী এই অনুষ্ঠানের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশাসনকে সামনে রেখে তিনি এই অনুষ্ঠান বন্ধ করার চক্রান্ত লিপ্ত আছেন।