ঠান্ডা-গরম বল দিয়ে ইউয়েফার ড্র’তে কারচুপি!

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৪ জুন , ২০১৬ সময় ০৯:২১ অপরাহ্ণ

ইউরোপিয়ান ফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইউয়েফা গোমর ফাঁস করে দিলেন সেপ ব্লাটার। ইউরোপিয়ান ফুটবলের ড্র’তে ইউয়েফা অভিনব পদ্ধতিতে কারচুপি করে বলে অভিযোগ করলেন ফিফার সাবেক প্রেসিডেন্ট। কোনো টুর্নামেন্টে দলগুলোর ড্র করতে পাত্রে একই ধরনের বেশ কয়েকটি বল রাখা হয়। বলের মধ্যে রাখা কাগজে লেখা থাকে দলের নাম। এই বলগুলোর মধ্যে কয়েকটি গরম ও কয়েকটি ঠা-া করে রাখা হয়। যাতে যিনি ড্র’র বল তুলবেন তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী হাত দিয়ে অনুভব করে তুলতে পারেন। বিষয়টি অনুষ্ঠানের সামনের দর্শক ও টিভির দর্শকরা মোটেও ধরতে পারবেন না। কিন্তু এরমধ্যে কারচুপি ঠিক-ই হয়ে যাবে। দুর্নীতির দায়ে সব ধরনের ফুটবলী কর্মকা-ে ৬ বছরের জন্য নিষিদ্ধ সেপ ব্লাটার। তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ- তিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে সহজ গ্রুপে ফেলতে কারচুপি করেছিলের। ইরান, বসনিয়া ও নাইজেরিয়ার সহজ গ্রুপে আর্জেন্টিনাকে ফেলতে তার হাত ছিল। কিন্তু ব্লাটার কীভাবে কারচুপি করেছিলেন তার পদ্ধতির কোনো বর্ণনা নেই অভিযোগকারীদের হাতে। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করলেন ব্লাটার। সঙ্গে অনেকের অজানা বিষয়টি জানিয়ে দিলেন সুইজারল্যান্ডের এ ভদ্রলোক। তার সময়ে ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে এমন ঘটনা হয়নি বলে তার দাবি। তবে ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রকারী সংস্থা ইউয়েফাকে অভিনব পদ্ধতিতে ‘ফিক্সিং’ করতে দেখেছেন বলে জানালেন তিনি। আর্জেন্টিনার পত্রিকা ‘লা নেশন’ পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার সময়ে ফিফা কখনও ড্র নিয়ে কারচুপি হয়নি। আমি কখনও বল স্পর্শ করিনি। তবে ড্র’তে কারচুপি অবশ্যই সম্ভব। আপনি নির্দিষ্ট কয়েকটি বলকে গরম কিংবা ঠা-া করে পাত্রে রাখতে পারেন। তারপর অনুভব করে ইচ্ছা মতো সেটা তুলতে পারেন। ড্র’র আগে আপনি টার্গেট অনুযায়ী কয়েকটি বল রেফ্রিজারেটরে রেখে ঠা-া করতে পারেন। তারপর পাত্রে রেখে হাতের অনুভব করে সেটা পরিকল্পনা অনুযায়ী তুলতে পারেন। আমি নিজে ইউরোপিয়ান ফুটবলে এমন করতে দেখেছি। কিন্তু ফিফায় কখনও এমন হয়নি। তবে এটা করা যায়।’ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে ৮০ বছর বয়সী ব্লাটার বলেন, ‘ব্লাটার দুর্নীতিবাজ নয়। তারা আমার মধ্যে কিছু খোঁজার চেষ্টা করছে। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের কোনো আইন-কানুন ভেঙ্গেছি বলে আমার মনে হয় না। তারা আমার কিছুই খুঁজে পাবে না। ফিফা মোটেও দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। কোনো সংস্থা দুর্নীতি করতে পারে না। কিছু মানুষই দুর্নীতি করে।’