টেকনাফ সড়কে অবৈধ যানবাহনে বাড়ছে জনদুর্ভোগ

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৮ মে , ২০১৮ সময় ০৯:৫৬ অপরাহ্ণ

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে প্রতিনিয়ত বাড়ছে অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা। অদক্ষ, আনাড়ি চালকের হাতে এসব যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনা, যানজট। গত বছরের আগষ্টের পর থেকে মিয়ানমার হতে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা আগমন ও অবস্থানের সুযোগে কক্সবাজার জেলার থেকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের বৈধ ও অবৈধ যান বাহনের ঢল নামে এ সড়কে। বিশেষ করে উখিয়ার মরিচ্যা থেকে পালংখালী পর্যন্ত দীর্ঘ ২৫কি:মিটার সড়কের শৃংখলা বজায় রাখতে গিয়ে পুলিশ ও অন্যান্য প্রশাসনকে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গত বছরের আগষ্টের পর থেকে ৭লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম উদ্বাস্তু হয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়। ইতিপূর্বে থাকা সহ বর্তমানে রোহিঙ্গা আশ্রয়ের সংখ্যা ১১লক্ষাধিক। এসব রোহিঙ্গাদের অবস্থান কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে বন বিভাগের পাহাড়ি ও টিলা শ্রেণীর জমির উপর। প্রায় ৯লক্ষ রোহিঙ্গার অবস্থান উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী পুটিবনিয়া পর্যন্ত এলাকায়। ব্যাপক আকারে রোহিঙ্গা আগমন ও অবস্থানের কারনে বিগত কয়েক মাস ধরে এ সড়কে উখিয়া সদর, কোটবাজার, মরিচ্যা, কুতুপালং, বালুখালী ও থাইংখালী স্পটে প্রতিনিয়ত বিশৃংখল পরিস্থিতি বিরাজমান রয়েছে। রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির গুলোতে জাতিসংঘ সহ শতাধিক এনজিও, আইএনজিও কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব এনজিও সহ সরকারী বিভিন্ন সংস্থা কয়েক হাজার সেবা কর্মী প্রতিদিন আশ্রয় শিবির গুলোতে যাতায়াত করে থাকে। রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির গুলোতে নিয়োজিত রয়েছে বিভিন্ন ভাবে হাজার খানেক সরবরাহকারী, ঠিকাদার ও তাদের নিয়োজিত লোকজন।
ব্যাপক সংখ্যক রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা, ত্রাণ সমাগ্রী বিতরন, মালামাল পরিবহন এবং আশ্রয় শিবির গুলোর রোহিঙ্গাদের প্রতিদিন এক ক্যাম্প থেকে অন্য ক্যাম্পে আত্মীয় স্বজনের কাছে যাতায়াত সহ বিভিন্ন কারনে যানবাহনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে অত্যাধিক। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সমস্যাকে পুজি করে উখিয়ায় পূর্বে যানবাহনগুলোর স্থলের পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন নতুন ইজি বাইক, সিএনজি, হালকা যানবাহন ও কিনছে অনেকে। আবার অনেকে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে মাসিক চুক্তিতে ইজি বাইক, সিএনজি, ছোট ভ্যান গাড়ি, রিক্সা, কাভার্ড ভ্যান, ডাম্প ট্রাক, ট্রাক, মিনি বাস, মাইক্রো বাস, জীপ, কার সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ভাড়ায় এনে চালাচ্ছে অবাধে। এসব যানবাহনের অনেকাংশের কোন বৈধ কাগজপত্র যেমন নেই, তেমনি চালকদের অধিকাংশ অদক্ষ, আনাড়ি ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক। ফলে প্রতিদিন এ সড়কের কোন না কোন স্থানে ঘটছে দুর্ঘটনা। গত এক সপ্তাহে পাঁচ দিনের ব্যবধানে সংঘটিত তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাত জন নিহত ও বারো জন আহত হয়েছে। এভাবে প্রায় প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় জন দুর্ভোগের পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে।
হাইওয়ে পুলিশের উখিয়ার ঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পরিদর্শক রাজেস বড়–য়া জানান, রোহিঙ্গা সমস্যা ও তাদের সেবায় প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হাজার হাজার লোকের উদ্বাস্তু শিবির গুলোতে গমনাগমন রয়েছে। এত সব লোকের যাতায়াতের জন্য শত শত যান বাহন চলাচল করছে। তা ছাড়া পণ্য ও ত্রাণ বাহী মাঝারী ও ভারি যানবাহন চলাচল বেড়েছে অনেক গুণ। সড়কের আয়তন ও সক্ষমতা সে অনুপাতে বাড়েনি। ফলে বিশেষ করে উখিয়ার মরিচ্যা থেকে পালংখালী পর্যন্ত বিভিন্ন স্পটে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সময় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। উখিয়ার মরিচ্যা থেকে পালংখালী পর্যন্ত প্রায় তিন’শ এর মত অতিরিক্ত পুলিশ প্রতিদিন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ও সড়কের শৃংখলা রক্ষায় কাজ করছে বলে তিনি জানান। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের বলেন, এখন অনেকটা শৃংখলা ফিরে এসেছে। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় এ সড়কের উপর দিয়ে কঠিন অবস্থা গেছে। এ পরও লোক সংখ্যা, কর্মজীবি মানুষ, ত্রাণ সামগ্রী সহ বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন নতুন নতুন শত শত বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের গমনাগমন ঘটছে এ সড়কে। মরিচ্যা থেকে পালংখালী পর্যন্ত সড়কের শৃংখলা ও যানজট নিরসনে প্রতিদিন নিয়োজিত রয়েছে ২৮ জনের মত ট্রাফিক পুলিশ। তবে তিনি সহ সর্ব মহল প্রয়োজন ও ব্যস্ততার তাগিদে কক্সবাজার থেকে উখিয়া হয়ে টেকনাফ সড়কে দ্রুত সম্প্রসারণ পূর্বক সড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলেন।