টেকনাফ স্থলবন্দরে পাঁচ দিন ধরে পণ্য খালাসের কাজ বন্ধ

প্রকাশ:| শনিবার, ২৬ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১১:৩১ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে পাঁচ দিন ধরে পণ্য খালাসের কাজ বন্ধ আছে। ব্যবসায়ী, ট্রাকমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বৈঠক করেও কোনো ধরনের সুরাহা করতে পারেননি।

৪২ বিজিবি গত সোমবার রাতে মো. জিয়াবুল ও মো. আয়াজ নামের টেকনাফ স্থলবন্দরের দুই ব্যবসায়ীকে ইয়াবাসহ আটক করে মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী, ট্রাকমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে ওই দিন রাতে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার কর্মসূচি দেওয়া হয়। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে আজ শনিবার বিকেল ছয়টা পর্যন্ত সব পণ্য খালাস বন্ধ ছিল।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থলবন্দরের অচলাবস্থা নিরসনের উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অব বর্ডার ট্রেডের সভাপতি মো. আবুল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেলিনা কাজী, স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) আবু নুর খালিদ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, আমদানি-রপ্তানিকারক ও ট্রাকমালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো ধরনের সুরাহা হয়নি।

বৈঠকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবুল হোসেন বলেন, মামলাটি এখন পুলিশ ও আদালতের তদন্তের বিষয়। আগামী দিনে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ ব্যাপারে আলোচনা করা হবে। ব্যবসায়ী নেতাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে বন্দর সচল করার পরামর্শ দেন তিনি।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিদার হোসেন জানান, দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারসহ তাঁদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
স্থলবন্দরের কয়েকজন ব্যবসায়ী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, কয়েকজন শ্রমিক সংগঠনের নেতা পরিচয়ধারী ব্যক্তির হাতে স্থলবন্দরটি জিম্মি। তাঁরা কোনো ব্যবসায়ী নন। প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় সংগঠনের নাম করে কথায় কথায় তাঁরা ধর্মঘট দিয়ে বন্দরে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেন। তাঁরা আরও বলেন, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের আমদানি করা কাঠ তীব্র রোদে খোলা মাঠে পড়ে থাকায় ফেটে যাচ্ছে। আদা শুকিয়ে যাওয়ায় এতে লোকসান গুনতে হবে।

টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) আবু নুর খালিদ জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল ছয়টা পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত রেখে সব ধরনের পণ্য খালাস বন্ধ রেখেছেন। এতে করে মিয়ানমার থেকে আসা ৩৫টি পণ্যবাহী ট্রলার-জট সৃষ্টি হয়েছে।

স্থলবন্দরের শুল্ক তত্ত্বাবধায়ক (কাস্টমস সুপার) নুরে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ধর্মঘটের কারণে পাঁচ দিন ধরে পণ্য খালাস বন্ধ রাখায় দৈনিক গড়ে ৩৫ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। মাস শেষে রাজস্ব আদায়ে এর প্রভাব পড়বে।