টেকনাফ সমুদ্র উপকূলে আবার নতুন করে ভয়াবহ ভাঙ্গন

প্রকাশ:| সোমবার, ২৮ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৮:১২ অপরাহ্ণ

c1
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন,কক্সবাজার
কক্সবজারের টেকনাফের উপকূলে নতুন করে আরও ভয়াবহ ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে। ২৬ অক্টোবর সরজমিন ভাঙ্গনস্থান পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে ভাঙ্গণের ভয়াবহ দৃশ্য। ভাঙ্গণের কবলে পড়ে শত শত ঝাউগাছ উপড়ে পড়ে গেছে। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার শামসুল হক জানান- জরুরী ভিত্তিতে বাঁধের ব্যবস্থা করা না হলে খুরেরমুখ ও হাদুরছড়া বিশাল আয়তনের গ্রাম দু’টি রক্ষা করা সম্ভব হবেনা । এ প্রসঙ্গে সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হামিদুল রহমান বলেন- উক্ত গ্রাম দু’টিতে ভাঙ্গনের খবর শুনেছি। কিন্তু আমি এখনও পরিদর্শন করতে পারি। তিনি এব্যাপারে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন। কিন্ত গত ৩ দিন ধরে অব্যাহত ভাঙ্গণের সাথে গ্রাম দু’টিতে সাগরের জোয়ারের পানি আসা-যাওয়া করছে । সরেজমিন পরিদর্শনকালে ভাঙ্গণের ভয়াবহতার প্রমাণ মিলেছে বড় বড় ঝাউগাছ শেকড়সহ উপড়ে পড়ে থাকতে দেখে । বিশেষভাবে উলেখযোগ্য যে, সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া থেকে কক্্রবাজার পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর উপকুলে কোন বেড়ীবাঁধ নেই । প্রাকৃতিক উঁচু উঁচু বালির ডেইল বেড়ীবাঁধের মতো এযাবৎ উপকূল বাসীকে রক্ষা করে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে প্রাকৃতিক এই বাড়ির ডেইল সাগরের করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। শামসুল হক মেম্বার আরও জানানÑখুরের মূখ ও হাদুরছড়ার ভয়াবহ ভাঙ্গন রোধে জরুরী ভিত্তিতে বালির বস্তা বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী “অমাবশ্যার জো” এর সময় বড় ধরণের বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে। চরম হুমকির মূখে পড়েছে ৪ শতাধিক পরিবার, ৩০০একর ফসলি জমি, ৪০ একর চিংড়ি ঘের। মহা আতংকে দিন কাটাচ্ছে উক্ত দুটি গ্রামের ৪ শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ । খবর পেয়ে ভাঙ্গণের ভয়াবহতা স্বচক্ষে না দেখলে বুঝানো কঠিন। ফসলি জমিতে জমেছে সাগরের বালি। বিশাল এলাকা ভাঙ্গণে সাগরের করাল গ্রাসে চলে গিয়েছে । স্থানীয় বাসিন্দাগণ জানান- বাপ-দাদার আমল থেকে এই এলাকায় এধরণের ভয়াবহ ভাঙ্গণ দেখিনি । তাছাড়া অতীতের কোন সময়ে এসব গ্রামে সাগরের পানি উঠেনি ।