টেকনাফে লবন চাষীদের মাথায় হাত

প্রকাশ:| রবিবার, ১২ মার্চ , ২০১৭ সময় ০৯:৫১ অপরাহ্ণ

শামসু উদ্দীন, টেকনাফ::
টেকনাফে লবণ মাঠের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার ভোর রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে ভারী বৃষ্টির পানিতে লবণ মাঠগুলো তলিয়ে গেছে এবং বৃষ্টির পানিতে অনেক লবণ মাঠ এখনো ডুবে আছে। তাছাড়া রাতে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় অনেক লবন পানিতে ভেসে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, হঠাৎ রাতে সৃষ্ট হওয়া টানা বৃষ্টির পানিতে লবণ ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকের অনেক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। লবণ শিল্পের কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি চাষ দুই সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে। ভরা মৌসুমে হঠাৎ করে সৃষ্ট বৃষ্টির কারণে লবণ ব্যবসায়ী এবং প্রান্তিক চাষীরা কয়েক কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
গত বছর লবণ চাষে চড়া দাম পাওয়ায় টেকনাফের কৃষকেরা আরো বেশী লবণ চাষের দিকে ঝুকেঁ পড়ছিল। গত বছর ৮৮হাজার ২শ মেট্রিকটন লবণ উৎপাদন করলেও চলতি মৌসুমে উপজেলার সাবরাং টেকনাফ পৌর,সদর,হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নে লবণের চড়া দাম পাওয়ায় অনেকে লোভের বশীভূত হয়েই লবণ চাষীরা আরো বেশী লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষাবাদ শুরু করেছিল। হঠাৎ ভারী বৃষ্টি লবণ চাষীদের মাথায় হাত দিতে হচ্ছে। গত ২০১৫-২০১৬ইং মৌসুমে টেকনাফ উপজেলায় প্রত্যন্ত এলাকায় ২হাজার ৭শ একর জমি হতে ৮৮হাজার ২শ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। এদিকে হ্নীলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোছাইন মুহাম্মদ আনিম জানান- এই বৃষ্টিতে লবণ চাষ বাবদ ৩লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ২০১৬-২০১৭ইং মৌসুমে চাষ এবং উৎপাদন দুটিই সমানতালে বাড়তে পারে বলে ধারণা করলেও এই ভারী বৃষ্টি তাদের আশাহত করেছেন।
লবণ চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ, নয়াপাড়া, নাজিরপাড়া, জ¦ালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, দমদমিয়া, জাদীমুরা, মুচনী, লেদা, আলীখালী, রঙ্গিখালী, নাটুমরাপাড়া, ফুলের ডেইল, হোয়াব্রাং, মৌলভীবাজার, খারাংখালী, নয়াবাজার, ঝিমংখালী, নোয়াপাড়া, কাঞ্জরপাড়া, উনছিপ্রাং, লম্বাবিলসহ প্রায় ৩ হাজার একর লবণ মাঠের বেশীর ভাগ মাঠ পানিতে ডুবে গেছে। ডুবন্ত এসব লবণ মাঠ চাষ যোগ্য করতে আবারও ১০/১৫দিন সময় লেগে যাবে বলে চাষীরা জানিয়েছেন। লবণ চাষী উপজেলার রঙ্গিখালী এলাকার শাহ আলম মাঝি জানান, বৃষ্টির পানিতে লবণ মাঠের বেড এখনো ডুবে আছে। রাতে হঠাৎ করে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক লবন নষ্ট হয়েছে। দিনে বৃষ্টি হলে কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতাম।
উপজেলার হ্নীলা এলাকার লবণ ব্যবসায়ী খলিল আহমদ জানান, আচমকা রাতে বৃষ্টি হওয়ায় টেকনাফে অন্তত কোটি টাকার লবণ পানিতে ভেসে গেছে। টানা বৃষ্টির কারণে লবণ চাষ দুই সপ্তাহ পিছিয়ে যাবে জানিয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন আমাদের যেমন ক্ষতি হয়েছে তেমনি চাষীদেরও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।
বিসিক টেকনাফ লবণ কেন্দ্রের ইনচার্জ মো: মিজানুর রহমান জানান, বৃষ্টির পানিতে লবণ শিল্পের কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বেশীর ভাগ মাঠের লবণ তলিয়ে গিয়ে এখনো পানিতে ডুবে আছে বলে এই কর্মকর্তা জানান। তবে আগামীতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাষীরা আরো ভাল লবণ উৎপাদনে যেতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে চলতি বছর কক্সবাজার জেলার জন্য ১৮লক্ষ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।##


আরোও সংবাদ