টেকনাফে আলী বাহিনীর খুটীর জোড় কোথায় ?

প্রকাশ:| বুধবার, ১৯ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ০৮:৪২ অপরাহ্ণ

প্রতিনিধি:
টেকনাফে আলী বাহিনীর খুটীর জোড় কোথায়? এমন প্রশ্ন এলাকাবাসীর। এ বাহিনীর অত্যচার ও নির্যাতনে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মামলা করে ও কোন প্রকার প্রতিকার পাচ্ছেনা ভূক্তভোগীরা। এ বাহিনীর প্রধান হোতা মোঃ আলী প্রকাশ আলী দালাল। তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, প্রতারক, আইন শৃংখলা বাহিনীর দালাল, ভূমিদস্যুসহ অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও সে অভিযোগ মাথায় নিয়ে এলাকায় চষে বেড়াচ্ছে। কে এই আলী, সে হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভী বাজার কবির আহমদের পুত্র আলী আহমদ। ইতিপূর্বে সে আরব আমিরাত, ইরাক ও আফগানিস্তানে গিয়েছিল। সেখানে বিদেশ ভ্রমনের নামে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবাস জীবনে ছিল। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানা যায় কথিত মোঃ আলী একজন আই,এস এবং আনমারুল্লাহ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিল। উল্লেখ্য তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশে একযোগে প্রেক্ষিতে সে জেলহাজতে ছিল একাদিক সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এসব নানা অপকর্ম এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ থাকা সত্বেও সে কিভাবে এলাকায় বসবাস করছে তা নিয়ে সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। নানা অপকর্মের হোতা আলী-এলাকায় এসে একটি বাহিনী তৈরী করে। সে বাহিনীর নাম আলী বাহিনী নামে পরিচিত, এ বাহিনীর কাছে এলাকাবাসী জিম্মি। সন্ত্রাসী ভূমিজবরদখল চাঁদাবাজী মামলাবচাজ, প্রতারক, মানব পাচার ও আইন শৃংখলা বাহিনীর দালালসহ অস্থাবেদে নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। এসব কাজের জন্য মধ্যপ্রাচ্য থেকে অর্থ যোগান দিয়ে আসছে, তার অপরাধ জগতের হোতারা। এমনকি তার চাচা শফিক আহমদ এ অর্থের ক্যাশিয়ার। কথিত আলী বাহিনী কালো টাকার পেশিশক্তির প্রভাবে সংশ্লিষ্ঠদের ম্যানেজ করে এলাকায় আধিপাত্য বিস্তার করে যাচ্ছে। কথিত আলী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবেশী আপন চাচাতো ভাই মৃত হাজী সুলতান আহমদের পুত্র মোঃ ইব্রাহিমসহ তার পরিবার নির্যাতনের শিকার। এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্থানীয় গ্রাম্য আদালত এবং থানায় মামলা ও অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেননা বলে মামলার বাদী মোঃ ইব্রাহীম সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে তার পৈত্রিক সম্পত্তির জবরদখলের পায়তারা চালিয়ে আসছে। পৈত্রিক ওয়ারিশ মোঃ ইব্রাহিম ৪০ কড়া জায়গা পাবার পরও সে ভূমিদস্যুর হোংকারে দখলে যেতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সম্প্রতি পৈত্রিক প্রদত্ত ৪০ কড়া বসত ভিটার উপর বাড়ী নির্মাণ করলে ঐ বাহিনীর লোকেরা তাকে বারংবার প্রান নাশের হুমকিও ধমকি দিয়ে আসছে। এর প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ ও মামলা করলে পুলিশ উক্ত মামলায় কথিত বাহিনীর হোতদা মোঃ আলীকে গ্রেফতার করে। পরে সে জামিনে আসলেও তার অপকর্ম কিন্তু এখনো থামেনী। ইতিপূর্বে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে ইব্রাহীমের পিতা হাজী সোলতান আহমদ কক্সবাজার পুলিশ সুপারের বরাবরে ২০০৯ সালে অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে স্থানীয় সাংসদ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সুপারিশ করেছিল। এছাড়া চলতি বছর ৪/৪/১৭ সালে টেকনাফ মডেল থানায় মোঃ ইব্রাহীম নিজে বাদী হয়ে মোঃ আলীকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। সর্বকশেষ ১৪/৪/১৭ সালে টেকনাফ মডেল থানায় নিজে বাদী হয়ে মোঃ আলী প্রকাশ আলী দালাল(৪০) প্রধান আসামীা করে ৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্ধেশ্যেমারধরের মামলা দায়ের করে। মামলার অন্যান্য আসামীরা হচ্ছেন, মৃত হাজী অজিউল্লাহর পুত্র শফিক আহমদ ও শফিক আহমদের পুত্র ফাহাদ (২২) সর্ব সাং- হ্নীলা মৌলভী বাজার। যার মামলা নং- ৪৯। ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৫৪/৩৮০/৪২৭/ ও ৫০৬। উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে কথিত মোঃ আলীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে সে কয়েকদিনের মাথায় সে জামিনে চলে আসে। অন্যান্য আসামীরা এখনো পলাতক অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখ থাকে যে, হাজী মৃত অজি উল্লাহর পুত্র মৃত সোলতান আহমদ এর ওয়ারিশদের মধ্যে পুত্র মোঃ ইব্রাহীম ৩৫ কড়া জমি ভোগ দখল করতে পারবেন বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম গত ২৪ এপ্রিল /১৭ উভয় পক্ষের শালিশী বৈঠক ভাগজা নামা পত্রে তার স্বাক্ষরে উল্লেখ করেন। এর পর জমির মালিক মোঃ ইব্রাহিম ভোগদখলীয় জমিতে বাড়ী নির্মাণ করেন। পরে উক্ত আলী বাহিনীর লোকেরা তার নির্মানকৃত বাড়ী উচ্ছেদ করতে নানা ধরনের প্রাণ নাশের দিয়ে আসছে। এলাকাবাসী উক্ত বাহিনীর নির্যাতনের প্রতিকার চেয়েছেন এলাকাবাসী।