টু মিলিয়ন’স ক্লাবভুক্ত হলো সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

টু মিলিয়ন’স ক্লাবভুক্ত হলো সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বার খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দর। বছর শেষ হওয়ার তিন দিন বাকি থাকতেই সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) ২০ ফুট দীর্ঘ (টিইইউস) ২০ লাখ ৮ হাজার ৪৪৫টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দর। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ৩১ ডিসেম্বর হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ২০ লাখ ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ দু্ই মিলিয়ন কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে এ সাফল্যকে স্মরণীয় মাইলফলক আখ্যা দিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অর্থাৎ মোট আমদানি-রপ্তানির ৯২-৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই পরিবাহিত হয়। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মধ্য দিয়ে একটি দেশের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রা স্পষ্ট বোঝা যায়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এ সাফল্যের পেছনে স্টেকহোল্ডার, আমদানি-রপ্তানিকারক, শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদান যেমন রয়েছে তেমনি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার গুরুত্বও অপরিসীম।

তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান আমদানি-রপ্তানির কার্গো, কনটেইনারের চাপ সামলাতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ইতিমধ্যে বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ইয়ার্ড সংস্কার, এনসিটি ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটি চালুর মধ্য দিয়ে কনটেইনার ধারণক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। নতুন কারশেড তৈরি করা হয়েছে, ফলে আগের কারশেডসহ বন্দরের মূল্যবান জায়গা হ্যান্ডলিংকাজে ব্যবহার করা যাবে। অকশন শেড বাইরে স্থানান্তর করা হয়েছে। লালদিয়ায় বাল্ক টার্মিনাল এবং পতেঙ্গা উপকূলে বহুল আলোচিত বে টার্মিনাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের চেহারা যেমন প্রতিদিন বদলে যাচ্ছে তেমনি বন্দরের চেহারা এবং সক্ষমতাও।

বন্দরবিশারদদের ভবিষ্যৎবাণী চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়িয়ে গেছে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের আধুনিক হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট, কনটেইনার টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিটিএমএস), ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (ভিটিএমআইএস) ইত্যাদির যেমন ভূমিকা আছে তেমনি উন্নতবিশ্বের বন্দরগুলোর মতো সুব্যবস্থাপনার কারণে একের পর এক মাইলফলক অর্জন করেছি। সাফল্যের নতুন নতুন অধ্যায় রচনা করতে পেরেছি।

বন্দরের পরিবহন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ যে রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে তারই প্রমাণ দুই মিলিয়ন টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং। প্রতিবেশী দেশ ভারতে কয়েকটি বন্দর টু মিলিয়ন ক্লাবভুক্ত হলেও আশপাশের অনেক দেশ এখনো এ সাফল্য দেখাতে পারেনি। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় সুখবর।

তিনি জানান, ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ১৭ লাখ ৩১ হাজার ২১৯ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৫ সালে তিন দিন বাকি থাকতেই বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। যা বিগত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর আগে নব্বইয়ের দশকে একবার ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা শুনেছেন বলে জানান তিনি।

বন্দরের চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) মিলে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিনও দারুণ খুশি বন্দরের নতুন রেকর্ডে। বাংলানিউজকে বললেন, ‘টু মিলিয়ন টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সরকার, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্টেক হোল্ডাররাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এক্ষেত্রে আমরা আনন্দিত চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৫৩ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে পেরেছি। আগামী বছর আমাদের লক্ষ্য ৬০ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হলে আগামী দিনে নতুন নতুন রেকর্ড স্থাপন করা সম্ভব হবে। যেমন টু মিলিয়ন টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে এনসিটি ও সিসিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’