টানা বর্ষণ আর পাহাড়ী ঢলে হাটহাজারীতে বন্যা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ১৩ জুন , ২০১৮ সময় ১২:৩০ অপরাহ্ণ

টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে হাটহাজারী উপজেলা প্রায় ১২ থেকে ১৪টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। বাড়ছে জন দুর্ভোগ। বন্যায় ডুবছে রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এনিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ।

গত ১০জুন (রবিবার) বিকাল থেকে ১২জুন (মঙ্গলবার) সকাল পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে হাটহাজারী পৌরসভা, গুমান মর্দ্দন, ছিপাতলী, নাঙ্গলমোড়া, মেখল, গড়দুয়ারা, উত্তর ও দক্ষিণ মাদার্শা, শিকারপুর, বুড়িশ্চর, মির্জাপুর, ফতেপুর, চিকনদণ্ডী, ধলই ও ফরহাদাবাদের কিছু অংশ বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে অনেকেই ঘর-বাড়ি ছেড়ে ঠাঁই নিয়েছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে। এ বারে উজানে আসা পাহাড়ী ঢল আর অবিরাম ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার হাটহাজারী পৌরসভা, প্রায় সবকটি ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়ক, অসংখ্য ঘরবাড়ি, মাছ চাষের পুকুর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে টইটুম্বর হয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অপর দিকে হালদা নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে একাধিক জায়গায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে পানিতে ঘর-বাড়ি নিমজ্জিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে হালদা এলাকার মানুষজন। অন্যদিকে হাটহাজারী-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক, হাটহজারী-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক ও হাটহাজারী অক্সিজেন মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় মহাসড়কে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত যানচলাচলে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছে। যাত্রীরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে ঠেলাগাড়ি, নৌকা, তিন চাকাবিশিষ্ট ভ্যান, জীপ ও ট্রাকে করে চলাচল করতে হয়েছে। এছাড়াও হাটহাজারী পৌর সদরের কাচারী সড়কের সোবহান প্লাজা, তৈয়বা নূর কমপ্লেক্স, হাটহাজারী কলেজ গেইটের জাগৃতি সংলগ্ন দোকানপাঠে পানি প্রবেশ করায় দোকান মালিকদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি আর মানুষের ক্ষয়ক্ষতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

এদিকে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তার উননেছা শিউলী জানান, উপজেলা প্রশাসন প্লাবিত এলাকায় দুর্যোগ সৃষ্টি হলে তা মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও জেলা প্রশাসনের নিকট ত্রাণের আবেদন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগ মোকাবেলায় বন্যা কবলিত এলাকার জনগণকে অপেক্ষাকৃত উচু স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে এবং হালদা নদীর পাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত জনগনকে নিরাপদ স্থানে সরে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি যেকোন ধরণের দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে নিম্নলিখিত মোবাইল নাম্বরসমূহে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। নাম্বার হলঃ- ০১৮৩৮-৬৭২৭৮০, ০১৬১৯-৮৯৩২৩২।