টানা দরপতনে লেনদেনও কমেছে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৭:৫২ অপরাহ্ণ

গত কয়েক দিনের অব্যাহত দরপতনে শেয়ার কেনাবেচাতেও এক প্রকার ধস নেমেছে।images.jpgটানা দরপতনে

মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। সোমবার এ বাজারে মোট ৪৩২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়।

ক্রমাগত শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে সাম্প্রতিক সময়ের লেনদেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। গত ৯ জুলাই ডিএসইতে এক হাজার ২৯৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছিল।

এদিকে টানা চতুর্থ দিনে সোমবার দেশের দুই শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এদিন মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বেশিরভাগ ফান্ডের দর বেড়েছে। মিশ্রাবস্থায় ছিল ব্যাংকিং খাত। অন্য সব খাতে ছিল মিশ্রাবস্থা।

ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮৬ কো¤ক্সানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে ৮৫টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৭৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির দর। সাধারণ সূচক সাড়ে ৪৬ পয়েন্ট বা ১ শতাংশের কিছু কমে ৪৩৫৮ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে নেমেছে।

সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২০৪ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৪২টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারিয়েছে ১৪৮টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির দর। নির্বাচিত খাত মূল্য সূচক প্রায় ৮৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৮০০৭ পয়েন্টে নেমেছে। লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড।

ডিএসইর লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, টানা তিন দিনের দরপতনের পর সকাল ১১টায় বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়। এতে শুরুতেই সাধারণ সূচক ২৯ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়ে। কিন্তু আগের দিনগুলোর মতো বৃহৎ মহৃলধনবিশিষ্ট কোম্পানিগুলোর দরপতন শুরু হয়। এতে আবারও সূচক নিম্নগামী হয়। তিন ঘণ্টার লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় এভাবে শেয়ারদরের ওঠানামা চলে। শেষ পর্যন্ত সিংহভাগ শেয়ারই দরপতনের মিছিলে যোগ দেয়।

ডিএসইতে এদিন ব্যাংক খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১১টির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে ১১টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮টির দর। মিউচুয়াল ফান্ড খাতের লেনদেন হওয়া ৩৯টি ফান্ডের মধ্যে ২৩টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১টির দর। এছাড়া ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক খাতের ২২ কোম্পানির মধ্যে ২২টির দর কমেছে। একইভাবে বীমা খাতের ৪৬ কোম্পানির মধ্যে ৩২টি, জ্বালানি ও শক্তি খাতের ১৫টির মধ্যে ১২টি, প্রকৌশল খাতের লেনদেন হওয়া ২৩ কোম্পানির মধ্যে ১৯টি, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২৩ কোম্পানির মধ্যে ১৫টির দর কমেছে। অন্য খাতগুলোতেও একই অবস্থা ছিল।

সার্বিক লেনদেনের প্রেক্ষাপটে সোমবারও জ্বালানি ও শক্তি খাতের সাড়ে ৭১ কোটি টাকার লেনদেন কমেছে। তারপরও এ খাতের ১৫ কোম্পানির ১০৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন ছিল খাতওয়ারি লেনদেনের শীর্ষে, যা মোট লেনদেনের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি।

একক কোম্পনি হিসেবে সোমবার লেনদেনের শীর্ষে থাকা ২০ কোম্পানির মোট ২৬৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়, যা মোট লেনদেনের প্রায় ৬২ শতাংশ। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ৩২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা ছিল একক কোম্পানির সর্বাধিক শেয়ার লেনদেন। এরপরের অবস্থানের ছিল বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল, তিতাস গ্যাস, পদ্মা অয়েল, গ্রামীণফোন।

সার্বিক নেতিবাচক অবস্থার মধ্যে সোমবারও জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়। প্রায় ১০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়ে এদিন শেয়ারটি ৯৭ টাকা ৩০ পয়সা দরে কেনাবেচা হয়। এ ছাড়া লেনদেনের বিভিন্ন সময়ে আইপিডিসি এবং প্রাইম ব্যাংক প্রথম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ডও সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়। বিপরীতে রেনউয়িক যজ্ঞেশ্বর, ইস্টার্ন কেবলস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন এবং বঙ্গজ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়।