টাকা ফিরে পেতে ৪২ সদস্যের দালাল চক্রকে খুঁজছে রোহিঙ্গারা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| সোমবার, ১ জানুয়ারি , ২০১৮ সময় ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া।
আরাকান থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে গত বছরের ২৫ অক্টোবর নিজ ভূমি থেকে পালিয়ে সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নিলে পরিচিতজনরা সহানুভূতি ও সহযোগিতার নামে এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে স্বর্ণালংকার ও গবাদি পশু কৌশলে হাতিয়ে নেয়। শেষ সম্বল গবাদি পশুগুলো রক্ষা করতে পারেনি নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। অর্থের লোভ দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের গরুগুলো নিয়ে গেছে ৪২ সদস্যের দালাল চক্র। বর্তমানে গবাদি পশুর পাওনা ২২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফিরে পেতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা। রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে গরু আনার অভিযোগে অভিযুক্ত এসব ব্যক্তিকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও।
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক হামিদ হোছন ও আবুল হাশেম জানান মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার সময় দুইজন ২৬টি গরেু এনেছিলেন। পরে আশারতলী গ্রামের জনৈক আলী হোসেন ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের জসিম মেম্বার ছয় লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে গরুগুলো নিয়ে গেছেন। বাকী পাঁচ লাখ ৯০ হাজার টাকার জন্য ওই দুই ব্যক্তিকে খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। এই সিন্ডিকেট একইভাবে রোহিঙ্গা নাগরিক ছৈয়দ আমিনের কাছ থেকে পাঁচটি গরু ৭৩ হাজার টাকা দর করে ১৩ হাজার টাকা দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।
এছাড়াও ফুলতলীর শাহজাহান, কচ্ছপিয়ার তৈয়ব, মকবুল আহমদ, আমির হামজা, নুরুল ইসলাম, আনার আলীসহ সহ অন্তত ৪২জন দালাল চক্র রোহিঙ্গাদের মোট ২২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
রোহিঙ্গা নাগরিক ছৈয়দ আমিন, আবদুল জলিল, জয়নাল উদ্দিন, মৌ আবুল হোছন, ছৈয়দুল আমিন, শাহজাহান, মাওলানা আমান উল্লাহ জানান, রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে যারা গরু নিয়ে গেছেন তারা পূর্ব পরিচিত আবার কেউ আত্বীয়। দুঃসময়ে বিশ্বাস করে তাদের গরু ও স্বর্ণালংকার দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতারণা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে বড়ছন খোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার ফরিদুল আলম জানান, রোহিঙ্গাদের নির্বাচিত মাঝিরা (দল নেতা) ৪২ জনের একটি তালিকা করেছেন। তবে সেই তালিকাটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দেওয়া হয়েছে কিনা তা জানা নেই।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি নাই্যংছড়ি ৩১ বিজিবি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল আনোয়ারুল আযীম তার বক্তব্যে বলেছেন, চিহ্নিত ব্যক্তিরা বিজিবির চোখে অপরাধী। পাশাপাশি তাদের মুখোশ উম্মোচন করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।