টাইগারদের টি-টোয়েন্টি সিরিজও হাতছাড়া হল!

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ১১:২৩ অপরাহ্ণ

একদিনের সিরিজ খোয়া গেছে। সঙ্গে জুটেছে ধবলধোলাই। টি-টোয়েন্টি সিরিজেও প্রথম ম্যাচ হেরে বেকায়দায় মাশরাফিরা। দ্বিতীয় ম্যাচ জিততেই হবে। নতুবা এখানেও সিরিজ হবে সিরিজ হার। ঘরের মাঠে বাঘ তা’হলে কী এভাবেই নিউজিল্যান্ডে সফরে একের পর এক ম্যাচ হেরেই যাবে! কিন্তু শেষ চেষ্টা তো করতে হবে। তার জন্য চাই দ্বিতীয় ম্যাচ জয়। এ রকম একটি ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটাতে হলে যে রকম সূচনার প্রয়োজন তাই যেন করে দেখালেন দলপতি মাশরাফি। ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে টস জেতার পরও বোলিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন মাশরাফি। সে কথার যথার্থতাই প্রমাণ করেন অধিনায়ক নিজে। ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার লুক রঞ্চিকে আউট করেন মাশরাফি। আগের দিন আবার এই ম্যাচের কথা বলতে এসে সাব্বির রহমান জানিয়েছিলেন, ‘জয় পেতে হলে তারা দল হিসেবে খেলবেন। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আসছে। কিন্তু দলগতভাবে পারফরম্যান্স হচ্ছে না’।

মাশরাফির এই শুরুর সঙ্গে প্রয়োজন পড়ে সাব্বিরের কথার প্রতিফলন। অন্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু কোথায় কী? সবই অদৃশ্য থেকে যায়। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। প্রথম বলে উইকেট নেয়ার পরও শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড করে ৭ উইকেটে ১৯৫ রান। কার্যত এখানেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের সিরিজে ফেরার স্বপ্ন। ১১ বল বাকি থাকতেই ১৪৮ রানে অলআউট হয়ে আবারো হার মানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪৭ রানে। সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার পর এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশ ধবলধোলাই ঠেকাতে পারে কিনা? আগামীকাল একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে শেষ ম্যাচ।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে সিরিজে ফিরে আসার ম্যাচে কালও বাংলাদেশের হাত থেকে ফসকে গেছে ম্যাচ। এক পর্যায়ে ৪৬ রানে নিউজিল্যান্ডের তিন উইকেট নিয়ে বেশ চাপে ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে তখন নিউজিল্যান্ড ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের বোলাররা পরে আর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি। ওয়ান ডাউনে নামা ওপেনার কলিন মুনরু সে নিয়ন্ত্রণ আলগা করে দেন মাত্র ৫৪ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১০১ রানের ইনিংস খেলে। সঙ্গী হিসেবে পেয়ে যান টম ব্রুসকে। তিনি ৩৯ বলে ৫৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। গতকালের আগ পর্যন্ত যে বোলাররা নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করে গেছেন, কাল তারাই করেছেন সবচেয়ে বাজে বোলিং। পেসার কিংবা স্পিনার সবাই অকাতরে রান বিলিয়েছেন! এক পর্যায়ে স্বাগতিকদের রান ছিল যেখানে ৫.৩ ওভারে তিন উইকেটে ৪৬। সেখানে তাদের রান দুইশ’ ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এই কাজটি চতুর্থ উইকেট জুটিতে খুবই সাফল্যের সঙ্গে করেন মুনরো ও ব্রুস ১১.১ ওভারে ১২৩ রান যোগ করে। শুরুতেই মাশরাফি উইকেট নেয়ার পরও অপর দুই পেসার রুবেলও মোস্তাফিজ রান চেক দিতে না পারায় সাকিব এসে সেখানে সফল হন প্রথম ওভারেই দুই রান দিয়ে উইকেট নিয়ে। পরের ওভারে মোসাদ্দেকও সাত রান দিয়ে তুলে নেন উইকেট। এ সময় মনে হচ্ছিল হয়তো স্পিরাদের দিন। ফলে মাশরাফি সফরে প্রথমবারের মতো মাহমুদউল্লাহকে আক্রমণে নিয়ে আসেন। সে ওভারে রান আসে মাত্র পাঁচ রান দেন। কিন্তু সেই মাহমুদউল্লাহই তার পরের ওভারে ২৮ রান দেন। এক ওভারে এটি বাংলাদেশের কোনো বোলারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। এর চেয়ে বেশি রান আছে রুবেলের। তিনি ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই রান দিয়েছিলেন। বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার পর এ সময় উল্কার গতিতে রান সংগ্রহ করতে থাকেন মুনরো ও ব্রুস। এ অবস্থার সামাল দেন রুবেল এক ওভারে মুনরোসহ গ্রান্ডহোমের উইকেট তুলে নিলে। ফলে শেষ পাঁচ ওভারে নিউজিল্যান্ড ৪২ রান যোগ করে। তিন স্পিনার আট ওভারে যেখানে রান দিয়েছেন ৮৬ (ওভার প্রতি ১০.৬), সেখানে তিন পেসার ১২ ওভার রান দিয়েছেন ১০৫ (ওভার প্রতি ৮.৭৫)। রুবেলর (৩/৩৭) ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংও তাই চিত্রে দোলা দিতে পারেনি।

ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে পেসার বা স্পিনাররা সফল নাও হতে পারেন। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বোলিংয়ের দিকে দৃষ্টি ফেরালে আবার উল্টো চিত্র ফুটে ওঠে। উইকেট দেখে দলপতি কেন উইলিয়ামসন তার নিজের মাঠে সেরা একাদশে একজন স্পিনার বাড়তি খেলান। ফলও পান হাতে হাতে। তিনি নিজে আর স্যান্টনার ও সোধি মিলেই বাংলাদেশের ইনিংসের অর্ধেকের বেশি খেয়ে ফেলেন। স্যান্টনার তিন ওভারে মাত্র ১৪ রানে নেন এক উইকেট। উইলিয়ামসন ছিলেন আরো হিসেবে। চার ওভার ১৬ রানে এক উইকেট নেন তিনি। সোধি চার ওভারে ৩৬ রান দিলেও উইকেট নেন তিনটি। এ দিন অবশ্য স্বাগতিক দলের পেসারদের আবার বেধড়ক পিটিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। ফলে বাজে ফর্মে থাকা সৌম্য সরকারও নিজেকে ফিরে পান ২৬ বলে দুই ছয় ও তিন চারে ৩৯ রান করে। ফর্মে থাকা সাব্বির খেলেন তিনটি করে চার ও ছয়ের সাহয্যে ৩২ বলে ৪৪ রান। সাব্বির-সৌম্য তৃতীয় উইকেট জুটিতে যতক্ষণ ব্যাটি করছিলেন ততক্ষণ ম্যাচে ছিল বাংলাদেশ। এ সময় তারা ৬.৪ ওভারে যোগ করেন ৬৮ রান। কিন্তু নয় বলের ব্যবধানে দুই ব্যাটসম্যানই ফিরে গেলে বাংলাদেশের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। বাকিরা করেন উইকেটে আসা-যাওয়া।

হারের কারণ সম্পর্কে মাশরাফি মনে করেন ১৫ রানের মতো বেশি হয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও তিনি উইকেটের কথা মনে করে হাল ছেড়ে দেননি। তিনি বলেন, ‘এই উইকেটে যেহেতু ১৮০ নিয়মিত তাড়া হয়েছে। তাই আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল যে, যদি ভালো শুরু পাই, উইকেট বেশি গেলেও যেন ৬০-৭০ রান হয়। তারপরও একটা পর্যায়ে গিয়ে আমরা সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি। ৪৮ বলে ৮০ রান লাগবে। ছয় উইকেট হাতে ছিল। ওদের মূল বোলাররা বেশিরভাগ বল করে ফেলেছে। ওই সময়ে একটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরপর দু’জন থিতু ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যাওয়ার পরে খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল।’


আরোও সংবাদ