ঝড়ো হাওয়ায় বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তি লন্ডভন্ড

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৭ মার্চ , ২০১৭ সময় ০৯:৫৭ অপরাহ্ণ

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া:
আষ্কমিক ঝড়োহাওয়া ও বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বালুখালী নতুন রোহিঙ্গা বস্তি। গত ৬ মার্চ বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা। কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীর পান বাজার ষ্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বে পাহাড়ে বনবিভাগের জায়গায় ঝুঁপড়ি ঘর বেঁধে আশ্রয় নেয় প্রায় ২২ শত রোহিঙ্গা পরিবার। এসব রোহিঙ্গারা এলোমেলো ভাবে যার যার মত করে শত শত ঘর তৈরি করে বসবাস করছে। পলিথিন ও জঙ্গলের ছাউনি দিয়ে বস্তির ঘর তৈরি করে খেয়ে না খেয়ে কোন রকম মানবতের জীবন যাপন করছে। হঠাৎ গত সোমবার উখিয়ায় আস্কমিক বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া হলে রোহিঙ্গা বস্তিতে বসবাসরত শত শত রোহিঙ্গা দিশাহারা হয়ে পড়েছে। তারা তাদের ঝুঁপড়ি ঘরে আর থাকতে পারছে না। কারণ বৃষ্টির পানিতে ও বাতাসে তাদের এসব ঝুঁপড়ি ঘর উড়িয়ে ফেলেছে। নির্যাতিত রোহিঙ্গারা এক দিকে তাদের মাথা গোঁচার ঠাই ভেঙ্গে গিয়ে হতাশ। অন্যদিকে কোন খাদ্য সামগ্রি না থাকায় অনাহারে দিনাতিপাত করছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বালুখালীতে নতুন গড়ে উঠা রোহিঙ্গারা বস্তিতে গেলে সাংবাদিকরা রোহিঙ্গাদের এসব অসহায় চিত্র দেখতে পায়। রোহিঙ্গা দম্পতি জুলেখা বেগম (৩০) জানান, মা বাবাসহ ৫জন নিয়ে ঝুঁপড়ি ঘরে থাকছি। বৃষ্টি পানিতে ও বাতাসে তাদের একমাত্র থাকার ঘরটি ভেঙ্গে গেছে। অপর রোহিঙ্গা আবুল বশর (৪২) ও স্ত্রী সাবেকুন্নাহার জানান, ৫ ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকার ঝুঁপড়ি ঘরটি ভেঙ্গে যায়। রোহিঙ্গা ছমুদা খাতুন জানান ২ ছেলে ৩ মেয়ে নিয়ে মায়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বালুখালীতে আশ্রয় নিয়েছি। আয়-রোজগার করার কেউ নেই। অনাহারে অর্ধহারে দিনাতিপাত করছি। স্বামী বুকে ব্যাথা রোগী হওয়ায় কিছু করতে পারে না। গতকাল সোমবার রাতে ভাত খেয়েছিলাম। আজ দিনেও খেতে পারি নাই। কোন ত্রাণ সামগ্রি কপালে জুটেনি। এভাবে রোহিঙ্গা বস্তিতে চলছে হাঁহাকার অবস্থা। নতুন বস্তির মাঝি লালু জানান, মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা অমানবিক জীবন যাপন করতেছে। অধিকাংশ রোহিঙ্গা পরিবারে খাবারের একমুঠো চাউল নেই।