ঝুঁকিপূর্ণ ভবন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

প্রকাশ:| সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৭:১৫ অপরাহ্ণ

চসিক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশননগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। সোমবার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত তিনটি ভবনে অভিযান পরিচালনা করেছে।

একটি ভবনকে আগামীকাল সকালের মধ্যে খালি করতে বলা হয়েছে। অন্য দুটির একটিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে অন্যটিকে একসপ্তাহের মধ্যে সংস্কার করার নিদের্শনা দিয়েছে আদালত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর সদরঘাট থানার পিকে সেন সড়কের বড়ুয়া ভবনটি হেলে আছে। এ ভবনটি’র পাঁচতলা অনুমোদন নিয়ে ছয়তলা তোলা হয়েছে। ভবনটিতে সাতটি পরিবার ভাড়া থাকেন। ভবনটি পাশের ‘মা ভবন’র উপর হেলে পড়েছে।

ভবনটিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করে করপোরেশনের কাছে তালিকা দেয়। করপোরেশন গত ২৬ জুলাই ভবনটির মালিককে ‍অনুমোদনবিহীন অংশটি ভেঙ্গে ফেলার নোটিশ দেয়। কিন্তু প্রায় দু’মাস পার হলেও ভবন মালিক কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় করপোরেশন নিজেরাই ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।

আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল নয়টা মধ্যে ভবনটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে করপোরেশনের ভ্রাম্যমান আদালত। বাড়ির মালিক ঝুঁকির বিষয়টি ভাড়াটিয়াদেরও জানায়নি বলে জানান ভাড়াটিয়ারা।এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব। এ ভবনটা যে ঝুকিপূর্ণ তা আমাদের আগে জানানো হয়নি। এখন কি করবো তাই ভাবছি।

ভবনটির চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া বনানী চৌধুরী বলেন, হঠাৎ করে বাসা ছেড়ে দিতে বলছে ম্যাজিস্ট্রেট। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব। এ ভবনটা যে ঝুকিপূর্ণ তা আমাদের আগে জানানো হয়নি। এখন কি করবো তাই ভাবছি।ভবনটি হেলে পড়ার পর থেকে আমাদের ভবনের ৮টি পরিবার আতঙ্কে বসবাস করছেন।

বড়ুয়া ভবনের মালিক দীপক বড়ুয়া বলেন, আমার ভবনটি ঝুকিপূর্ণ কিনা এটা সিডিএ পরীক্ষা না করেই প্রতিবেদন দিয়েছে। আগে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখুক। এরপর ভেঙ্গে ফেলা হলে কোন আপত্তি থাকবে না। এখন হঠাৎ করে বললেতো আর ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব না।

এছাড়া পি কে সেন সড়কের পিকে সেন সাততলা ভবনটিকেও সংস্কারের নির্দেশনা দিয়েছে আদালত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শতবর্ষী এ ভবনের নামকরণে এলাকার নামও পিকে সেন সাততলা সড়ক। ভবনটির বর্তমান মালিক অনুপম ঘোষ। এর চুড়ায় দু’তলা সমান একটি মিনার রয়েছে। নান্দনিক স্থাপনা শৈলীও দেখার মতো। তবে রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে ভবনটির স্থানে স্থানে ফাটল ধরেছে। এতে বর্তমানে সাতটি পরিবার বসবাস করছেন।

এর মালিক ‍অনুপম ঘোষ বলেন, সিডিএ’র ঝুকিপূর্ণের তালিকায় আমাদের ভবনটি নেই। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এটা আমরাও বুঝতে পারছি। এটি ভেঙ্গে ফেলার প্রক্রিয়া চলছে।

করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন বলেন, আমরা আজ থেকে সিডিএ’র তালিকা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ অভিযান শুরু করেছি। বড়ুয়া ভবনটিকে দু’মাস আগে ভেঙ্গে ফেলার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা না ভাঙ্গাই আমরা ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু স্থানীয় প্রতিনিধিদের অনুরোধে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভবনটি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এছাড়া পিকে সেন ভবনটি ঝুকিপূর্ণের তালিকায় না থাকায় এটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে জামালখানের আজাদ ভবনটি ফাটল ও হেলে পড়ায় ভবনটির অনুমোদনের কাগজপত্র নিয়ে সিটি করপোরেশনে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাজিয়া শিরিন বলেন, ভবনটি ফাটল লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং হেলে পড়েছে। এটির কাগজপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরোও সংবাদ