ঝিকরগাছা ইউপি চেয়ারম্যান গুলিবিদ্ধ, দায় এড়াচ্ছে পুলিশ

প্রকাশ:| রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১০:৩০ অপরাহ্ণ

যশোরের ঝিকরগাছা ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খোরদেশ আলমকে পুলিশ আটকের পর গুলি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার সকালে তাকে আটকের পরে বিকেলে আহত অবস্থায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিকালে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করেছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা আখতারুজ্জামানও প্রাথমিকভাবে গুলিবিদ্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) চাপে তিনি এ ঘটনাকে ‘গণপিটুনিতে আহত’ বলে উল্লেখ করেছেন।
গুলিবিদ্ধ, দায় এড়াচ্ছে পুলিশ
ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের বোন মুন্নী বেগম জানান, রোববার রাতে ট্রাক ও প্রাইভেট কারে বোমা হামলার অভিযোগে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ খোরশেদ আলমকে আটক করে। সকালে পরিবারের লোকজন থানায় গেলে তাদের জানানো হয়, তাকে আদালতে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এরপর আদালত, ডিবি অফিস, র‌্যাব অফিস কোথাও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিকেলে তারা জানতে পারেন, গুলিবিদ্ধ খোরশেদ আলমকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ খোরশেদ আলমকে ধরে এনে গুলি করেছে এমন অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনও করেছেন তার স্ত্রী তহমিনা বেগম।

তবে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক বলেন, চালবাহী ট্রাক ও প্রাইভেটকারে বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে স্থানীয়রা খোরশেদকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ওই ঘটনায় এসআই কবির হোসেন বাদী হয়ে ৩০-৪০জনের নামে মামলা করেছেন। ওই মামলায় খোরশেদ দুই নম্বর আসামি।

তবে খোরশেদ আলমকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মির্জা আকতারুজ্জামান জানান, রোগীর বাম পায়ের হাঁটুর নিচে গুলির চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকের উদ্বৃতি দিয়ে ওসির কাছে জানতে চাইলে তিনি গুলির বিষয়টি অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ করে জরুরি বিভাগে যান ওসি। সেখানে গিয়ে তিনি চিকিৎসক আকতারুজ্জামানের সাথে দুর্ব্যবহার করেন এবং হুমকি দেন। এরপর আগের বক্তব্য থেকে সরে আসেন ওই চিকিৎসক।