জয় টাইগারদের জয়

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ১১:০৬ অপরাহ্ণ

টাইগারদের ছুঁড়ে দেওয়া ১৭৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে শ্রীলঙ্কা। এ রিপোর্ট লেখা অবধি ১৭ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে লঙ্কানরা তুলেছে ১২৪ রান।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাকিব ফিরিয়ে দেন কুশল পেরেরাকে। বোল্ড হওয়ার আগে তিনি করেন ৪ রান। নিজের দ্বিতীয় আর ইনিংসের তৃতীয় ওভারে সাকিবের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ফেরেন দিলশান মুনাবিরা। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি করেন ৪ রান। দলীয় ১৯ রানেই দুই উইকেট হারায় লঙ্কানরা। এরপর উইকেট শিকারে যোগ দেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে উপুল থারাঙ্গাকে ফেরান তিনি। থারাঙ্গা মিরাজের হাতে ধরা পড়ার আগে ২১ বলে করেন ২৩ রান। দলীয় ৪০ রানে তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেটের পতন হয় লঙ্কানদের। পরের ওভারের প্রথম বলেই মোস্তাফিজ ফিরিয়ে দেন গুনারত্নেকে। প্রথম বলে উইকেট নেওয়ার পরের বলেই ফিরিয়ে দেন সিরিবর্ধানেকে।

ইনিংসের ১৩তম ওভারে আবারো বোলিং আক্রমণে আসেন সাকিব। এসেই তুলে নেন থিসারা পেরেরার উইকেট। স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ার আগে পেরেরা ২৩ বলে ২৭ রান করেন। দলীয় ৯৮ রানের মাথায় ষষ্ঠ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। দলীয় ১১৯ রানের মাথায় মাশরাফি ফিরিয়ে দেন সেকুজে প্রসন্নকে। টাইগার দলপতি সরাসরি বোল্ড করেন ১১ রান করা সেকুজে প্রসন্নকে। ইনিংসের ১৭তম ওভারে অষ্টম ব্যাটসম্যান কাপুগেদারাকে (৫০) ফেরান মোস্তাফিজ। একই ওভারে মালিঙ্গাকে বোল্ড করেন মোস্তাফিজ।

জয় দিয়ে অধিনায়কের শেষ ম্যাচটিকে রঙিন করে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে লঙ্কানদের মুখামুখি হয় টাইগাররা। বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা টাইগারদের দলপতি মাশরাফি টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশ ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৭৬ রান।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা আনার লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামেন সৌম্য সরকার আর ইমরুল কায়েস। ইনিংসের সপ্তম ওভারে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। গুনারত্নের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। বিদায়ের আগে ইমরুলের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ৭১ রান তোলেন সৌম্য। ব্যক্তিগত ৩৪ রান করেন তিনি। তার ১৭ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চার আর দুটি ছক্কার মার। ইমরুল-সাব্বির জুটি বড় হয়নি। অষ্টম ওভারে রান আউট হন ৩৬ রান করা ইমরুল। তার ২৫ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চার আর একটি ছক্কার মার। দলীয় ৭৮ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১২৪ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেটের পতন হয়। ১৮ বলে ১৯ রান করে সঞ্জয়ার বলে ১৪তম ওভারে বোল্ড হস সাব্বির। সাকিবের সঙ্গে ৪৬ রানের জুটি গড়েন তিনি।

টাইগারদের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হয়ে বিদায় নেন সেট ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান। ব্যক্তিগত ৩৮ রানে ফেরেন তিনি। ৩১ বলে চারটি চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে তিনি তার ইনিংসটি সাজান। ১৩৯ রানের মাথায় বিদায় নেন সাকিব। কুলাসেকারার বলে বোল্ড হন তিনি। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে থিসারা পেরেরা ফেরান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। বিদায় নেওয়ার আগে ১১ বলে একটি চার আর একটি ছক্কায় ১৭ রান করেন তিনি। দলীয় ১৫২ রানের মাথায় বাংলাদেশ পঞ্চম উইকেট হারায়। ইনিংসের ১৯তম ওভারে বোলিং আক্রমণে আসেন মালিঙ্গা। সেই ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ আর পঞ্চম বলে আউট করেন মুশফিক, মাশরাফি এবং মিরাজকে। হ্যাটট্রিক করতে প্রথম দুটি উইকেট নেন বোল্ড করে। মুশফিক ৬ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন। মাশরাফি আর অভিষিক্ত মিরাজ কোনো রান না করেই ফেরেন। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হন সাইফউদ্দিন (৬)।

শ্রীলঙ্কার হয়ে ৪ ওভারে ৩৪ রানে হ্যাটট্রিকের কল্যাণে তিনটি উইকেট পান মালিঙ্গা।

এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই লাল-সবুজের দাপুটে অধিনায়ক মাশরাফি তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। বাংলাদেশের হয়ে রেকর্ড ২৮বার নেমেছেন টি-টোয়েন্টিতে টস করতে। দুটি পরিবর্তন আসে বাংলাদেশ একাদশে। পিঠের ইনজুরির কারণে নেই তামিম ইকবাল। তার জায়গায় দলে আসেন ইমরুল কায়েস। এদিকে, ৫৭তম টি-টোয়েন্টি টাইগার ক্রিকেটার হিসেবে দলে অভিষেক হয় মেহেদি হাসান মিরাজের। পেসার তাসকিনের জায়গায় দলে আসেন মিরাজ। লঙ্কানরা অপরিবর্তিত রাখে তাদের একাদশ।

বাংলাদেশ একাদশ: ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদি হাসান মিরাজ।

শ্রীলঙ্কা একাদশ: কুসল পেরেরা (উইকেটরক্ষক), দিলশান মুনাবিরা, উপুল থারাঙ্গা (অধিনায়ক), চামারা কাপুগেদারা, আসেলা গুনারত্নে, মিলিন্দা সিরিবর্ধানে, থিসারা পেরেরা, সেকুজে প্রসন্ন, নুয়ান কুলাসেকারা, লাসিথ মালিঙ্গা ও ভিকুম সঞ্জয়া।


আরোও সংবাদ