জয়ের টাকা ‘চুরি’ ঢাকতেই আসলাম নাটক সাজিয়েছে সরকার

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৭ মে , ২০১৬ সময় ০৯:২৫ অপরাহ্ণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের অ্যাকাউন্টে ৩০০ মিলিয়ন ডলার এবং রাজকোষ চুরির (বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ) ঘটনা থেকে বের হওয়ার জন্য সরকার আসলাম চৌধুরী নাটক সাজিয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।

দলটি বলেছে, ‘সরকার পতনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে। সেখান থেকে উত্তোরণে ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে তারা। এ লক্ষ্যে আসলাম চৌধুরী নাটক সাজানো হয়েছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্যই এটি করা হয়েছে। ইসরায়েল, ইসরায়েল, ইসরায়েল কথাগুলো বলা হচ্ছে।’

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাথে তাদের সখ্যতা বেশি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকার নির্বাচিত কি নির্বাচিত না, তা তারা দেখে না। বারবার তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। সেই ভারতের মাটিতে বিএনপির একজন লোক (যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী) গিয়ে বাংলাদেশ সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করবে, এটা হাস্যকর ছাড়া আর কিছু হতে পারে?’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘ভারতে বসে বিএনপির কোনো নেতা যদি সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যের সাথে গোপন বৈঠক করেন, তাহলে তো ক্ষণে ক্ষণে ফুলের মালা পরা এবং ঘণ্টায় ঘণ্টায় তাদের সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা হবে না, এটি তো তাহলে পৃথিবীর ইতিহাসের একটা বিরল ঘটনা।’

আসলাম চৌধুরীর রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক দুটি পরিচয়ই আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারতের সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবসা। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা হরহামেশা ভারতে যাচ্ছেন, সেখানকার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলছেন, বৈঠক করছেন। তাছাড়া আগ্রা শুধু পর্যটন কেন্দ্রই নয়, ভারতের বিশাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাউস। বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা চট্টগ্রামের একজন বড় ব্যবসায়ী সেখানে যেতেই পারেন।’

বিএনপির সিনিয়র এ যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘২০০০ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ গোপনে ইসরায়েল সফর করেছিলেন বলে কথা উঠেছিল। এটি নিয়ে তখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার কোনো কথাই বলেনি। তাহলে আজ এই কথাটি কেন আসছে? বাংলাদেশের কোনো সরকার কখনোই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। ফিলিস্তিনিদের স্বার্থের প্রতি অটুট সমর্থন দিয়েছে। বিএনপিও দ্ব্যর্থহীনভাবে ফিলিস্তিনি স্বার্থের পক্ষে কথা বলেছে, সমর্থন দিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘২০১৪ সালের জুন মাসে ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত জন গমেজ তার বাসায় ইসরায়েলের পতাকাবাহী রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নৈশভোজ (ডিনার) করেছিলেন। সেটা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী তখন বলেছিলেন- আমরা জন গোমেজকে ফিলিপাইন থেকে প্রত্যাহার করছি। তাকে শোকজ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অথচ জন গোমেজ এখনো ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত। তাহলে এতে কি প্রমাণিত হয় না যে, আওয়ামী লীগ মোসাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকা ব্যবহার করে ২০১৪ সাল থেকে তারা এ ষড়যন্ত্র (আওয়ামী লীগ) শুরু করেছেন। তা না হলে জন গোমেজ এখনো ফিলিপাইনে কিভাবে থাকেন? মাহমুদ আলী এখনো কিভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকেন? তার বিরুদ্ধে আড়াই বছরেও তো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলো না।’

আলাল বলেন, ‘আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সরকারের প্রচার ও গভীর ষড়যন্ত্র। এমনকি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে রেখেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, অর্থবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।


আরোও সংবাদ