জেল, জুলুম, হুলিয়াকে আলিংগন করে আন্দোলন

mirza imtiaz প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর , ২০১৮ সময় ১১:৪০ অপরাহ্ণ

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, দেশে এখন আইনের শাসন নেই। আইনের শাসনের পরিবর্তে আওয়ামীলীগ তাদের ইচ্ছামত দেশ পরিচালনা করছে। দেশে আইনের শাসন যদি বিদ্যমান থাকত এবং বিচার ব্যবস্থা যদি স্বাধীন হত তাহলে মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে থাকতে হত না। আইনের শাসন পূন:প্রতিষ্ঠা করতে হলে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। জেল, জুলুম, হুলিয়াকে আলিংগন করে আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদেরকে এই সমস্ত অধিকার আদায় করে নিতে হবে।

তিনি আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রামের উদ্যোগে আদালত ভবনের আইনজীবী অডিটরিয়ামে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী মরহুম সৈয়দ সিরাজুল আলম স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

নোমান বলেন, দেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারান্তরীণ রেখে সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর মত আরেকটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার চক্রান্ত করছে। সেই চক্রান্তের অংশ হিসেবে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা গায়েবী মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা পরিচালনাকারী সিনিয়র আইনজীবীদের পর্যন্ত এসব গায়েবী মামলায় আসামী করে হয়রানী করছে।

আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের অত্যাচারে বাসা বাড়িতে রাত্রিযাপন করতে পারছে না। পুলিশ প্রতিরাতে নিরীহ নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় আদালতে প্রেরণ করছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে কয়েক’শ নেতাকর্মীকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের অতি উৎসাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আপনাদের মনে রাখা উচিত এই সরকার শেষ সরকার নয়। রাত যত গভীর হোক সকাল কিন্তু হবেই। তাই প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে নিরপেক্ষ আচরণ করুন আর যারা নিরপেক্ষ আচরণ করতে পারবেন না তাঁরা দয়া করে আওয়ামীলীগে যোগদান করুন। আমার কর্মীদেরকে যারা অযথা গায়েবী মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন তাঁদেরকেও একদিন এসমস্ত অপকর্মের জবাব দিতে হবে।

নোমান আরো বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সংসদ ভেংগে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন পূর্ণগঠন করতে হবে এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে অন্যথায় বাংলাদেশে কোন নির্বাচন বিএনপি হতে দেবে না। বিএনপির হারানোর কিছু নয়, মিথ্যা মামলা, হামলা ও জেল-জুলুমকে বিএনপি নেতাকর্মীরা ভয় পায় না। আন্দোলনের উত্তাল তরংগে নৌকা প্রমত্ত পদ্মায় তলিয়ে যাবে।

প্রয়াত আইনজীবী সৈয়দ মোহাম্মদ সিরাজুল আলমের কর্মময় জীবনের উপর আলোকপাত করে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, সৈয়দ সিরাজুল আলম একজন প্রথিতযশা আইনজীবি ছিলেন। তিনি জীবদ্দশায় বিএনপিকে শক্তিশালী করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামে জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের অন্যতম প্রাণপুরুষ।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম চট্টগ্রামের সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জহুরুল আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ কবির চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাজিম উদ্দীন চৌধুরী,এস.ইউ.এম নুরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. আব্দুস সাত্তার, এড. আব্দুস সাত্তার সারোয়ার, এড. এ.এস.এম. বদরুল আনোয়ার, আব্দুল মালিক, এনামুল হক, রফিক আহমদ, রওশন আরা বেগম, আজিজুল হক, সেলিমা খানম, কাজী মোঃ সিরাজ, আকবর আলী, নুরুদ্দিন আরিফ চৌধুরী, আজমল হক, আব্দুল খালেক, শাহজাহান, ফৌজুল আমিন, হায়দার মোহাম্মদ সোলায়মান,মোঃ কাসেম চৌধুরী, আছিয়া খানম বিউটি, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সলিমউল্লাহ, আশফাক আহমদ, ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, আহমদুর রহমান খান, এস.এম. ফোরকান, শামসুল আলম,সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, নাছিমা আকতার চৌধুরী, এরশাদুর রহমান রিটু, কবির হোসেন, কানিজ কাউসার চৌধুরী, মোঃ ওসমান, লায়লা নুর, নুরজাহান, মুন্না ইসলাম, মনোয়ারা বেগম মেরী, আবুল মনসুর সিকদার, জেবুন্নাহার লিনা, নুরুল করিম এরফান, ফেদৌস মোরশেদ খান, মুরশিদ আলম, হাবিবউল্লাহ রুসী, আজিজ আহমদ, জায়েদ বিন রশিদ, আইনুল কামাল, মারুফ চৌধুরী, সিরাজদৌল্লাহ কুতুবী, চৌহিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল ফারুক আজাদ প্রমূখ।


আরোও সংবাদ