জেলা প্রশাসক চালালেন গাড়ি, ড্রাইভার বসলো পেছনে- কেন?

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ৬ মে , ২০১৮ সময় ০৯:২৩ অপরাহ্ণ

 

কালেক্টর দরজা খুলে দিচ্ছেন তার ড্রাইভারের জন্য ছবি: টুইটার

আজ তার ড্রাইভারের অবসরে যাওয়ার দিন। সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। এই ড্রাইভারের বদলি ড্রাইভারও প্রস্তুত। এসব নিয়ে একজন জেলা প্রশাসক পর্যায়ের কর্মকর্তার ভাবাভাবির কিছু থাকে না সাধারণত। তবে ভারতের কর্নাটকের কুরুর জেলার কালেক্টর টি. অন্বাঝগান অন্য ধাঁতের মানুষ।

যে ড্রাইভার তাকে সেবা দিয়ে গেছে আগেরদিন পর্যন্ত তার বিদায়ের দিনটিকে তিনি স্মরণীয় করে রাখতে চাইলেন। তাই দীর্ঘদিন যে লোকটি তার মতো কালেক্টরদের আনা-নেওয়া করেছে ড্রাইভিং সিটে বসে, সেই ড্রাইভিং সিটে গিয়ে তিনি নিজে বসলেন। এ ঘটনা চালক পরামাসিবমের জন্য ছিল চরম অপ্রত্যাশিত এবং একই সঙ্গে পরম আনন্দেরও।

কালেক্টর টি. অন্বাঝগান সেদিন ডিউটি শেষে অফিস থেকে বের হয়ে এলেন পরামাসিবমের সঙ্গে। এরপর বাইরে দাঁড়ানো গাড়ির দরোজা খুলে ধরলেন- কাজটি এতদিন পরামাসিবম করে এসেছেন তার জন্য। আজ কালেক্টর সাহেব নিজে তার চালকের জন্য একই কাজ করলেন। অভূতপূর্ব এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে ফেলেন সহকর্মীরা।

ওদিকে, পরামাসিবম এমন অভাবিত ঘটনায় চরম অপ্রস্তু বোধ করছিলেন। কিন্তু কালেক্টর সাহেব নাছোরবান্দা। তিনি তার চালককে পেছনের সিটে বসতে সাহায্য করলেন এরপর নিজে গিয়ে  বসলেন ড্রাইভিং সিটে। এসময় সেখানে ছিলেন চালকের স্ত্রীও- কালেক্টর সাহেব ড্রাইভিং সিটে বসার আগে তাকেও দরোজা খুলে ভেতরে বসান।

রাস্তায় অনেকেই এ দৃশ্য দেখে বিষম খাওয়ার যোগার। যারা কলেক্টর সাহেবকে চেনে এবং চেনে তার ড্রাইভারকেও- সবাই তাজ্জব।

তবে তিনি নিখাঁদ পেশাদার ড্রাইভারের মতোই গাড়ি চালিয়ে তার ‘সেদিনকার বসকে’ বাসায় পৌঁছে দিলেন অন্বাঝগান। পরামাসিবমের বাসস্থান অফিস থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের গান্ধিগ্রাম পর্যন্ত গড়ি চালিয়ে নিয়ে যান তিনি। এরপর ড্রাইভার তাকে নিজের বাসায় চায়ে আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে ভাগ্যবান ড্রাইভার পরামাসিবম বলেন, আমি পুরো হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। কখনো ভাবিনি যে এমন ঘটনা আমার সঙ্গে ঘটবে। আমি আমার বসের কাছে কৃতজ্ঞ। গর্ববোধ করছি যে নিজের রাজ্যের কিছু সেবা করতে পেরেছি আমার কাজের মাধ্যমে।

ভারতীয় মিডিয়াগুলো জানায়, টি. অন্বাঝগান শুধু তার চালককে নিজে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি-ই পৌঁছে দেননি, আগের দিন অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল অফিসে এক পার্টি দেন পরামাসিবমের বিদায় উপলক্ষ্যে।

এ ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছেন টি. অন্বাঝগান। তিনি মাত্রই গত মার্চে করুর জেলা কালেক্টরের দায়িত্ব নেন।

ড্রাইভারকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, যদি একজন কালেক্টর দিনে ১৬ ঘণ্টা কাজ করে থাকে তবে তার ড্রাইভার কাজ করে ১৮ ঘণ্টা। তাকে সবসময় অ্যালার্ট থাকতে হয়- পথে আমাদের জীবন তার জিম্মায় থাকে। সে তার বসের আগে কাজে আসে (তাকে অফিসে নিতে তার বাসায় আসে) এবং প্রায়ই দেরিতে নিজের ঘরে ফেরে। গত তেত্রিশ বছর আমাদের যে সেবা তিনি দিয়েছেন তার জন্য তাকে সম্মানিত করতে চাই। সারা জীবন তিনি আমাদের (কালেক্টর সাহেবদের) বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন। আজ আমাদের পর্ব এসেছে তাকে সম্মানের সঙ্গে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার।

পরামাসিবম ৩৩ বছর চাকরিশেষে গত ৩০ এপ্রিল অবসরে যান। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি ৮ জন কালেক্টরকে সেবা দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক শ্রীকান্ত গাড়ি ড্রাইভ করে নিয়ে যাচ্ছেন তার ড্রাইভার দিগন্বর থাককে   ছবি:জাগরন.কম

উল্লেখ্য, এ ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। গত জানুয়ারিতে মুংগেরের জেলা প্রশাসক উদয় কুমার সিং ৩২ বছর ধরে চাকরি করা ড্রাইভার সম্পত রামকে স্মরণীয় বিদায় দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। বছর দুয়েক আগে নভেম্বর মাসে মহারাষ্ট্রের আকোলা জেলার কালেক্টর জি. শ্রীকান্তও তার চালক দিগন্বর থাককে এভাবে বিদায় দিয়েছিলেন। ৩৫ বছরের চাকরির শেষ দিনটিতে শ্রীকান্ত নিজে গাড়ি চালিয়ে দিগন্বরকে তার ঘরে পৌঁছে দেন।

এসময় তাদের বহকারী সাদা গাড়িটি ছিল গোলাপ ফুল দিয়ে সাজানো। জাগরন.কম, জনসত্তা.কম


আরোও সংবাদ