জেলগেট থেকে জামাত-শিবিরের ৩ নেতা ফের আটক

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:১৮ অপরাহ্ণ

জামায়াত-শিবিরফের আটক করেছে জামিনে মুক্তি পাওয়া জামাত-শিবিরের ৩ নেতা। তাদেরকে কারাফটক থেকে আটক করে পুলিশ। এরা হলেন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল কবির (৩১) ও একই সংগঠনের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতা মো.মোস্তফা (২৮) এবং নগর জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আহসান উল্লাহকে।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় তাদের আটক করে পুলিশ কোতয়ালি থানায় নিয়ে যায়।

কোতয়ালি থানার ওসি মো.জসিম উদ্দিন বলেন, তিনজনের বিরুদ্ধে আর কোন মামলা আছে কিনা তা যাচাইবাছাই করার জন্য তাদের আটক করা হয়েছে। আহসান উল্লাহকে এ নিয়ে চারবার কারাফটক থেকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে গত ২৪ আগস্ট, ৭ সেপ্টেম্বর এবং ১০ সেপ্টেম্বর তাকে কারাফটক থেকে আটক করেছিল পুলিশ।

বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনের সময় তেল স্থাপনা উড়িয়ে দেয়ার মিশন নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল শিবিরের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এনামুল। আর ওই এজেন্ডা বাস্তবায়নে তার সঙ্গে ছিলেন নগর (উত্তর) শাখা ছাত্রশিবিরের পাঠাগার সম্পাদক মো.মোস্তফা। চলতি বছরের ৮ মার্চ নাশকতার মামলায় আহসান উল্লাহকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এছাড়া এনামুল ও মোস্তফাকে গত ২২ জুলাই আরও একবার কারাফক থেকে আটক করেছিল পুলিশ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে বাকলিয়া থানার বগার বিল এলাকা থেকে এনামুল ও মোস্তফাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল কোতয়ালি থানা পুলিশ। এর ফলে এনামুলের নাশকতার মিশন ভেস্তে যায়। পরবতীতে এনামুলকে চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং মোস্তফাকে দু’টি মামলা গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় তাদের কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ, হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর ডাক দিয়েছিল ২০ দলীয় জোট। এর মধ্যে এনামুল ১২ ফেব্রুয়ারি নাশকতার বার্তা নিয়ে ট্রেনে করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসেন।

জিজ্ঞাসাবাদে এনামুল পুলিশকে জানিয়েছিল, বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামে তেলের ডিপোসহ রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েইতনি চট্টগ্রামে আসেন। চট্টগ্রাম শহরকে উত্তাল করে ফেলার পরিকল্পনাও ছিল জামায়াত-শিবিরের।

১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে আসার পর এনামুলের সঙ্গে প্রথমে শিবিরের মহানগর শাখার (দক্ষিণ) সভাপতি আ ম ম মসরুর হোসাইনের সঙ্গে কথা হয়। মসরুর এনামুলকে শিবিরের মহানগর (উত্তর) শাখার সভাপতি নূরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। নূরুল আমিন তাকে নিয়ে চকবাজার কলেজ রোডে পার্সিভিল হিল এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে রাখেন।

১৩ ফেব্রুয়ারি এনামুলের সঙ্গে নগর ও জেলার ছাত্রশিবিরের নেতাদের যোগাযোগ হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিবিরের মহানগর (দক্ষিণ) নেতা খালিদের সঙ্গে গিয়ে ফয়’জলেন এলাকায় এইচ এম সোহেলসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এনামুল।

১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ১০টার দিকে শিবির মহানগর (উত্তর) শাখার সভাপতি নূরুল আমিন ও দক্ষিণের সভাপতি এইচ এম সোহেলের সঙ্গে চট্টগ্রাম কলেজ এলাকায় বৈঠক করেন এনামুল। পরবর্তী বৈঠকের কথা ছিল সাবেক সাংসদ ও নগর জামায়াতের নায়েবে আমির শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে। তবে এর আগেই এনামুল ধরা পড়ে যান। এনামুল ঢাকা মহানগর শিবিরের সাবেক মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক। বর্তমানে শিবিরের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর এনামুল ঢাকা ‘ল’ কলেজ থেকে এলএলবি পাশ করেন।

মোস্তফা শিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর (উত্তর) শাখার পাঠাগার সম্পাদক ও সাউদার্ণ ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। মোস্তফা ফাটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের মনির আহম্মদের ছেলে।