জেদের কারণে এতদূর এসেছি-প্রিয়তি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:০৪ অপরাহ্ণ

প্রিয়তি‘আসলে কিন্তু আমার জেদেরই জয় হয়েছে। আমি জেদের কারণে এতদূর এসেছি। আপনার সক্ষমতাও কিন্তু আমার মতোই। তাই আপনিও পারবেন, শুধু লাফ দেওয়ার অপেক্ষা। লাফ দিন, পৃথিবী আপনাকে বরণ করে নেওয়ার জন্যে হাত বাড়িয়ে অপেক্ষা করছে।’

এভাবেই বলছিলেন মিস আয়ারল্যান্ড মাকসুদা আকতার প্রিয়তি। তখন হোটেল আগ্রাবাদের ইছামতি হলে পিনপতন নীরবতা। হল-ভর্তি নানান বয়সী মানুষ সুন্দরীর কণ্ঠসুধায় বুঁদ, যাদের বেশিরভাগই তরুণ। যাদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ। যাদের চোখে প্রিয়তির মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।

রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং খুলশী, প্রিয়তিরোটারি ক্লাব অব চিটাগাং ও রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং লিপটন ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রিয়তি8

প্রিয়তি7

প্রিয়তি6

প্রিয়তি5

প্রিয়তি3

প্রিয়তি2

প্রিয়তি1

প্রিয়তি4
প্রিয়তি বলছেন, আপনারা জানেন পেশায় আমি পাইলট। আকাশে উড়ি। এ উড়াউড়ির স্বপ্নও কিন্তু আমার আজীবনের, প্লেন নিয়ে অসীম আকাশে উড়তে উড়তে আমার মনে হয়, আকাশ তো দেখা হলো, এবার তার উপরে যাই না কেন? সেজন্যেই বোধ হয় আমি মিস আর্থের মতো হাইপ্রোফাইল প্রতিযোগিতায় ঝাঁপ দিই এবং আপনাদের মেয়ে, এই আমি তাতে প্রথম রানার আপ হই। এরপর যুক্ত হয়েছে আরও অনেক মুকুট।

তরুণদের উদ্দেশে প্রিয়তি বললেন, বন্ধুরা নিজেকে পোড়ান, কামনার আগুনে, চাওয়ার আগুনে। এক তরুণের গল্প বলি, সত্যি গল্প। প্রেমিকাকে ছেড়ে দূর শহরে এসেছেন, মন খুব খারাপ, তার রাজকুমারীকে প্রতিদিন দেখতে ইচ্ছে করে, কথা বলতে ইচ্ছে করে, কিন্তু শত বছর আগে চিঠি ছাড়া কোনো যোগাযোগের উপায় ছিল না। সে চিঠি আসতে আসতে মাস কাবার হয়ে যায়। তরুণের নাওয়া নেই, খাওয়া নেই, ঘুম নেই। তার কথা বলতেই হবে ফেলে আসা স্বপ্নকন্যার সাথে। কী করি, কী করি করতে করতে তরুণ একদিন, এক অদ্ভুত যন্ত্রই বানিয়ে ফেললেন, যা দিয়ে তারের সাহায্যে কথা বলা যায়। তারের এ প্রান্ত থেকে তিনি আকুল ডাকতে লাগলেন তার প্রেয়সীকে ‘হ্যালো’ ‘হ্যালো’।

জ্বি বন্ধুরা টেলিফোন এভাবেই আবিষ্কার হয়েছিল। আর আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের সে প্রেমিকার নাম ছিল ‘হ্যালো’। যার নাম আমি আপনি ফোন হাতে নিয়ে উচ্চারণ করি। আমাদের মধ্যে এ রকম তাড়না থাকতে হবে। বাধা জয় করার, অসম্ভবকে সম্ভব করার। দেখবেন আপনার মতো অজেয় কেউ নেই। যোগ করলেন মাকসুদা আকতার।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কথাসাহিত্যিক বাদল সৈয়দ, অতিরিক্ত কর কমিশনার বজলুল কবির ভূঁইয়া, রোটারিয়ান আবদুল আহাদ, মা ও শিশু হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট ডা. এএসএম ফজলুল করিম, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, খালেদ মাহমুদ সুজন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন রোটারি ক্লাব অব চিটাগাংয়ের সভাপতি আশিক ইমরান।

নিজেকে আর সব তরুণের মতো উল্লেখ করে প্রিয়তি বলেন, আমি আমার নিজের কথা বলছি না, আমি বলছি স্বপ্নের কথা। যা আপনাদের এ মেয়েটিকে আজ এ অবস্থানে এনেছে। আমি বলতে এসেছি, আমি কোনো ব্যতিক্রম নই। আপনার মতোই। শুধু আমি স্বপ্ন দেখেছি। আপনি দেখলে আপনিও পারবেন। সম্ভাবনার অমিত স্বপ্ন আপনাকে ঘিরে আছে, শুধু মুঠোয় ভরার অপেক্ষা। আপনি হাত বাড়ান, স্বপ্ন ধরা দেবে। শুধু হাত বাড়ানোর অপেক্ষা।

মানুষের চেয়ে বড় ক্ষমতাবান কেউ নেই উল্লেখ করে প্রিয়তি বলেন, আপনার ক্ষমতা আইনস্টাইনের চেয়ে বেশি। অবাক হচ্ছেন? না ‍অবাক হওয়ার কিছু নেই। তিনি মারা যাওয়ার পর তার ব্রেন নিয়ে গবেষণা হয়। তিনটি গবেষণাই বলেছে, আইনস্টাইনের ব্রেনের আকার আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষের চেয়ে কম। অর্থাৎ আমার আপনার ক্ষমতা তার চেয়ে বেশি। শুধু পার্থক্য তিনি তা কাজে লাগিয়েছেন। আমরা লাগাচ্ছি না। লাগালে আকাশের দিকে হেঁটে যাওয়া শুরু হবে। বিশ্বাস করুন হবে।

এরপর বললেন, আব্রাহম লিংকন জীবনের প্রথম ভাগে ছিলেন অতি ব্যর্থ একজন মানুষ। ২৭ বছর বয়সে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন। তারপরের ইতিহাস আমি আপনি সবাই জানি। আপনার আর আমার স্বপ্নের রং এক ও অভিন্ন। শুধু দেখা শুরু করার বাকি। তারপর কেবল বিজয়ের গল্প।

সুন্দরীর কণ্ঠে বাদ গেল না চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরার শান্তির দ্বীপের কাণ্ডারী নোবেলজয়ী ফাদার পিয়েরের কথাও। বললেন, তিনি যদি সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিয়ে এদেশে জীবন পাথ করতে পারেন আমরা কেন পারবো না। আমি চাই আপনারা ফাদার পিয়েরের মতো সফল হোন। গলায় থাকবে নোবেল, হৃদয়ে থাকবে মানুষের জন্যে মমতা। আমি কিন্তু মিস আর্থের চেয়ে অনেক বেশি চাই আমি যেন মাদার তেরেসার কাছাকাছি কেউ হই।


আরোও সংবাদ