জেডিসি পরীক্ষার দায়িত্ব অবহেলা কেন্দ্র সচিবকে অব্যহতি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

হাটহাজারীতে ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার জেডিসি পরীক্ষা দায়িত্ব অবহেলার কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন কেন্দ্র হাট-২ এর সচিব ছিপাতলী জামেয়া গাউছিয়া মুঈনীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল ফারাহ মোঃ ফরিদ উদ্দিনকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি প্রদান করা হয়েছে।পরবর্তী পরীক্ষা সমূহ পরিচালনার জন্য গুমানমর্দ্দন পেস্কারহাট ইসলামীয়া মাদ্রাসার সুপার মোঃ নুরুল আমিনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ আদেশ জারি করেন।
জানা যায়, ছিপাতলী গাউছিয়া মুঈনীয়া কামিল মাদ্রাসার জেডিসির পরীক্ষার ৯ নভেম্বর ইংরেজি ১ম পত্র,১০ নভেম্বর ইংরেজি ২য় পত্র ও ১৭ নভেম্বর বিজ্ঞান পরীক্ষায় উক্ত মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীর কক্ষে বিধি বহিভর্’ত ভাবে একই মাদ্রাসার সহকারী মওলানা মোঃ ইউচুপ আলীকে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়।এব্যাপারে কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নুরুল ইসলাম কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ আবুল ফারাহ মোঃ ফরিদ উদ্দিনকে অবহিত করলে তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।বিষয়টি পরবর্তীতে কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইনকে অবহিত করেন।নির্বাহী অফিসার বিধি বহিভর্’ত কর্মকান্ড ও দায়িত্ব অবহেলা কারণে কেন্দ্র সচিবকে অব্যহতি প্রদান করেন (স্মারক নং ৮৬৯ তাং ১৮/১১/১৪ ইং)। পরবর্তী পরীক্ষা সমূহ পরিচালনার জন্য গুমানমর্দ্দন পেস্কারহাট ইসলামীয়া মাদ্রাসার সুপার মোঃ নুরুল আমিনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।বিষয়টি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডেও চেয়ারম্যান,পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।

হাটহাজারীতে অবশেষে ছাত্রীর শ্লিলতাহানীর অভিযুক্ত শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

হাটহাজারী ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্লিলতাহানীর ঘটনায় ভিকটিম পিইসি পরীক্ষার্থী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জবানবন্ধী দিয়েছে।তাছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ আবদুল হালিমকে গত সোমবার সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।বিদ্যালয়ের পিএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীর শ্লিলতাহানীর অভিযোগে উক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়।
জানা যায়, মঙ্গলবার ভিকটিম শিক্ষার্থীকে আদালতে হাজির করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা হাটহাজারী মডেল থানার উপ পরির্র্দশক মোঃ হাবিবুর রহমান ।সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ইসরাত জাহান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২২ ধারা মোতাবেক ভিকটিমের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করেন। ঘটনার সত্যতা খুজে পাওয়ায় নারী ও শিশু দমন ট্রাইবুন্যাল জজ আদালত -০৩ এ প্রেরণ করেন।ভিকটিমের পিতার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলা পরিচালনাকারী এডভোকেট মোঃ নুরুল আনোয়ার এর জিম্মায় মেয়ের পিতার কাছে হস্তান্তর করে বিজ্ঞ আদালত ।গত ৫ নভেম্বর কথিত ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টার আবদুল হালিম নামে উক্ত শিক্ষক ডেকে নিয়ে যায়।প্রাইভেটের শেষে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিলেও পিএসসি পরীক্ষার্থী উক্ত শিক্ষার্থীকে এ শিক্ষক শ্লিলতাহানী করে বলে ছাত্রীর পিতা ১২ নভেম্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।তাছাড়া ১৩ নভেম্বর এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে শিক্ষককের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার,উপজেলা শিক্ষা অফিসার,উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নিয়ে ৩ জনের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।তাছাড়া ছাত্রীর পিতা গত ১৪ নভেম্বর পূণরায় থানায় ঘটনার বিষদ বর্ণনা দিয়ে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করলে পূর্বের অভিযোগের তদন্ত করে অভিযোগটিকে নারী ও শিশু নির্যাতন ধারায় মামলা রের্কড করেন।এদিকে ১৬ নভেম্বর সচেতন অভিভাবক ফোরামের ব্যানারে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারের দাবিতে উপজেলা সদরে মানব বন্ধন ও ইউএনওর বরাবরে স্মারক লিপি প্রদান করেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত কমিটির এক সদস্য সাংবাদিকদের জানান,কমিটির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।কোন নিরীহ লোক যাতে হয়রানীর শিকার না হয়,দোষী ব্যক্তিকে যাতে আইনের আওতায় আনা যায় সে লক্ষে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।তবে ঘটনার ব্যাপারে নানা রহস্য কাজ করছে।এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।থানার ওসি মোঃ ইসমাইল পিপিএম জানান,তদন্তকারী কর্মকর্তাকে এ মামলার ব্যাপারে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তাছাড়া তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় সচেতন অভিভাবক ফোরামের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।তাছাড়া বিদ্যালয়ে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে।


আরোও সংবাদ