জেএসএস-ইউপিডিএফ গ্রুপের বন্দুক যুদ্ধ : নিহত ২, আহত ৩

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ , ২০১৫ সময় ১০:৩৩ অপরাহ্ণ

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজাতীয় সশস্ত্র দুটি গ্র“প ইউপিডিএফ জেএসএস’র আবারো বন্দুক যুদ্ধে নেমেছে। রাঙ্গামাটি শহরের ফুরোমন মোনতলা এলাকায় গতকাল সকাল থেকে উপজাতীয় দুই গ্র“পের মাঝে ব্যাপক গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনায় সেনাবাহিনীর একটি হটল দলের উপর গুলি চালিয়ে বলে একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে। সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি ছোঁড়লে সন্ত্রাসীরা আরো গহীন অরণ্যে চলে যায়। এ ঘটনায় মোনতলা এলাকা জুড়ে আতংক বিরাজ করছে।

দায়িত্বশীল একটি সুত্র জানায়, দুই দিন ধরে চলমান এই বন্দুক যুদ্ধে অন্তত ২ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে রাসেল চাকমা (৩২) নামে জেএসএস’র এক নেতা নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া নিহত অপর একজনের নাম ও পরিচয় কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। এছাড়া আহত ৩ জন কোথায় কি অবস্থায় আছে তা জানা যায়নি।

এদিকে সেনাবাহিনীর উপর গুলি বর্ষণের ঘটনার পর পর সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের সাথে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনীর সাথে টিকতে না পেরে সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে থাকে। পরে রাঙ্গামাটি সদর জোন থেকে আরো বেশ কয়েকটি টহল টিম ঘটনাস্থলে ছুটে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি দল এলাকায় অবস্থান করছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী আরো জানায়, গত ৩ মার্চ রাত থেকে বন্দুক যুদ্ধ শুরু হয়। থেমে থেমে সকাল ১০ টা পর্যন্ত গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে এ সময় এলাকার মানুষদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা টহল শুরু করে। সেনাবানিহীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা নতুন করে কোন সংঘর্ষে জড়ায়নি। পরে সন্ত্রাসী আরো ভারী অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নতুন করে গতকাল দুপুর থেকে আবারো সংঘর্সে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রায় ১ হাজার রাউন্ডের উপরে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এলাবাসাী জানায় সন্ত্রাসীদের কাছে কোন ছোট অস্ত্র নয় অনেক ভারী ভারী অস্ত্র নিয়ে তারা নিজেদের শক্তি প্রদর্শণ করতে শুরু করে। এলাকাবাসী জানায় তবে এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে বলে শোনা গেলেও তা আমরা কেউ বলতে পারছি না।

এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনু ইমতিয়াজ জানান, গত দুই দিন ধরে মোনতলা এলাকায় গোলাগুলির খবর পেয়ে আমরা সাপছড়ি এলাকায় পর্যন্ত গিয়েছি। তবে এখন কোন গোলাগুলির শব্দ নেই। এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে সেনাবাহিনীর শক্ত অবস্থান রয়েছে। কিন্তু কোন হতাহতের খবর আমরা এখনো পায়নি।