জিয়া-খালেদাকে কটাক্ষ, ইনুর বক্তব্যে নিন্দার ঝড়

প্রকাশ:| শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১০:১৩ অপরাহ্ণ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়ারউর রহমান ও চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়াকে কটাক্ষ বক্তব্য দেয়ায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে নিয়ে বগুড়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এক ঘণ্টার বেশী সময় ধরে মন্ত্রী বিভিন্নভাবে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেন।

বক্তব্যের পুরো সময়টাই জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে দুঃসাহসী সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানকে রাজাকার আমদানিকারক এবং বেগম খালেদা জিয়াকে জঙ্গি উৎপাদনের কারখানা হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, নিজের জন্মভূমি বগুড়ার মানুষের কাছে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া যথেষ্ট জনপ্রিয়। বেগম জিয়া জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া সদর আসন থেকে সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন একাধিকবার। বগুড়ার মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী তিনি। অথচ পুরো জেলায় হাসানুল হক ইনুর ১শ’ সমর্থকও খুঁজে পাওয়া দায়। এমন একজন রাজনৈতিক নেতার মুখে জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অসলগ্ন মন্তব্যে বগুড়াবাসী অবাকই হয়েছেন।

ইনুর বক্তব্যের পর বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি নেতারা তীব্র ভাষায় তার অশালীন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ইনু সরকারের কৃতদাস। পুলিশি রাষ্ট্রে এ ধরনের কথা বলা কৃতদাসদের মুখেই সাজে। তার বক্তব্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক শিষ্টাচার বর্হিভূত।’

তিনি বলেন, ‘ইনু ও তার দলের অতীত কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষ ভুলে যায়নি। শহীদ জিয়ার জন্মভূমিতে এ ধরনের বক্তব্য বগুড়াবাসী গ্রহণ করবে না বরং তাকে ধিক্কার জানাবে।’

ভিপি সাইফুল বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশ থেকে বিদায় হবে না। ইনুর মুনিবেরা বিদায় হবে। তখন ইনু পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না। নিরপেক্ষ নির্বাচন দিলেই তার প্রমাণ মিলবে।’

বগুড়া সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল বলেন, ‘ইনু সরকারের চামচা। প্রধানমন্ত্রীকে খুশী করতেই তিনি মাঝে মধ্যেই পাগলের প্রলাপ বকেন। তার দলের কোনো অস্তিত্ব নেই।’

পুলিশ প্রোটেকশনে না থেকে রাজনীতিকদের মতো খোলা মাঠে এ ধরনের বক্তব্য দেয়ার জন্য তিনি মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

প্রবীণ নেতা সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মকবুল হোসেন মাস্টার বলেন, ‘৭৫ সালে শেখ মুজিব হত্যার পর ইনু যখন সেনাবাহিনীর ট্যাংকে চড়ে উল্লাস করেছিলেন, সে কথা তিনি এবং আওয়ামী লীগ ভুলে গেলেও বাংলার মানুষ ভুলে যায়নি। ইনু বিচার একদিন জনগণ বাংলার মাটিতেই করবে।’

ইনুর মুখে এসব কথা মানায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৭১ পরবর্তী জাসদের কর্মকাণ্ড দেশের মানুষ এখনও মনে রেখেছে।’

ইনু কাছ থেকে শুধু দেশের মানুষকেই নয় আওয়ামী লীগকেও সর্তক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে, শনিবার বিকেলে বগুড়ার শহীদ খোকন পার্কে জেলা জাসদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ছিলেন রাজাকার আমদানীকারক আর বেগম খালেদা জিয়া জঙ্গী উৎপাদনের কারখানা। তিনি বিএনপিকে ইতিহাসের ডাস্টবিনে পরিণত করেছেন। সেই ডাস্টবিনে ১৯৭১ এর খুনী, রাজাকার, জঙ্গী, মুদ্রা ও দেশের সম্পদ পাচারকারীরা আছেন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিএনপি বলে কোনো দল থাকবে না। এদেশ থেকে বিএনপির বিদায় হবে। আর খালেদা জিয়াকে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনীদের যেমন রেহাই দেয়া হয়নি, তেমনি খালেদা জিয়াকেও ছাড় দেয়া হবে না। তাকে আদালতের বারান্দায় দাঁড় করিয়ে রাখবোই।’

এদিকে, হাসানুল হক ইনুর আগমনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত থেকে বগুড়া শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শনিবার সকাল থেকে শহরের মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাতমাথায় রায়টকার ও জলকামান মোতায়েন করা হয়।

জাসদের সম্মেলনে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও যোগ দিতে দেখা গেছে। তারা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যানার নিয়ে সম্মেলনে যোগ দেয়। এমনকি দুই শতাধিক গ্রাম পুলিশ সরকারি পোশাক পরে সম্মেলনে যোগ দেয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


আরোও সংবাদ