জিএসপি পেতে সরকারকে সহায়তা দেবে বিএনপি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৯:৫৪ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) বাংলাদেশ ফিরে না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি বলেছে, এ সুবিধা আদায়ে তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে চায়।
মঙ্গলবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “জিএসপি সুবিধা ফিরে না পাওয়ার বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে ক্ষতিগ্রস্ত হলো, এটা উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।”

“যুক্তরাষ্ট্র যে কারণে জিএসপি সুবিধা দেয়নি, সেই কারণটি কিন্তু এখন পর্যন্ত বহাল থেকে গেলে। এটা দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আমরা মনে করি।”

একই সঙ্গে পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর স্বার্থে দ্রুত ১৬ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নেরও দাবি জানান রিপন।

তিনি বলেন, “তৈরি পোশাক শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ১৬ দফা নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার। এই ১৬ দফা নির্দেশনার মধ্যে মানবাধিকার ও পরিবেশের বিষয়গুলো যুক্ত রয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১২২টি দেশের পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার-সুবিধা (জিএসপি) নবায়ন করা হলেও সেই তালিকায় আসেনি বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরে (ইউএসটিআর) ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখনও ওই সুবিধা স্থগিত থাকার কথা জানিয়ে শ্রম অধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও দাবি করেছেন, রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা দেয়নি।

জিএসপি সুবিধা না পাওয়ার জন্য সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করে বিএনপি মুখপাত্র বলেন, “আজকে পত্র-পত্রিকায় এসেছে, এই জিএসপি সুবিধা ফিরে না পাওয়ার কারণ হচ্ছে- দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা ও সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী যিনি দক্ষিণ এশীয় ও নিকটপ্রাচ্য দেশগুলোর দায়িত্বে রয়েছেন- নিশা দেশাই বিসওয়াল। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত। হয়তোবা আমাদের মতো তার গায়ের রং। তার অর্থ এই নয় যে, তাকে আমরা দুই-আনা চার আনার মন্ত্রী বলতে পারি।”

সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ভুলের খেসারত জনগণকে দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে গ্রামীণ ব্যাংককে ‘স্বাধীনভাবে’ চলতে দেওয়ারও দাবি জানান রিপন।
তিনি বলেন, “যেসব নারী উদ্যোক্তা, যেসব উদ্যোক্তা ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাদের হাতে আবার ব্যাংকটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমাদের দলের চেয়ারপারসন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।”

দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত হোসেন জীবন, আবদুস সালাম আজাদ, বদরুজ্জামান খসরু, আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন, অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন, রফিক শিকদার প্রমুখ সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।


আরোও সংবাদ