জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থকদের মিছিল ও তোরণ নির্মাণ!

প্রকাশ:| রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:০৩ অপরাহ্ণ

তোরণ ২
পেকুয়া প্রতিনিধি:
আসন্ন ৩১ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পেকুয়া সদর ইউপিতে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মনোনয়ন দাবী করে ইউনিয়নের ৯ওয়ার্ডে দফায় দফা মিছিল ও শতাধিক তোরণ করেছে তার সমর্থক ও এলাকাবাসীরা। দীর্ঘদিন পেকুয়া উপজেলা তথা সদর ইউপিতে জনসেবামূলক কাজ করে যাওয়া জনপ্রিয় এ নেতাকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেওয়া হলে বিএনপির শক্তঘাটি হিসাবে পরিচিত এ এলাকা থেকে চেয়ারম্যান পদটি ছিনিয়ে আনতে পারবে বলে মিছিলে কর্মী সমর্থকরা দাবী করেছেন। এমনকি পুরো ৯টি ওয়ার্ডে হাজার হাজার সমর্থক ও এলাকাবাসীসহ মহিলারা রাস্তায় নেমে মিছিলসহকারে পথ সভাও করেছে তারা। এ বিষয়টি এখন পুরো পেকুয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
তোরণ
জানা গেছে, বর্তমান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম একজন আওয়ামী পরিবারের সন্তান। তার পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে তাকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে মনোনীত করেন। ওই সময় তিনি বিএনপির শক্তঘাটি হিসাবে পরিচিত সদরের ৫নং ওয়ার্ডে সর্বকনিষ্ঠ এমইউপি হিসাবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলাকায় তাক লাগিয়ে দেন। এরপর কাউন্সিলারদের প্রত্যক্ষ ভোটে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তারপর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কুচক্রীমহল কর্র্তৃক পরাজিত হয়ে নির্বাচন থেকে বিতাড়িত করে। এমনকি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে আবারো ওই কুচক্রীমহলের ইন্ধনে ১ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী রাজনীতি থেকে সরে যায়নি। মাঠ দখলে রাখে তিনি ও তার সমর্থকরা। মোকাবেলা করেন জামায়াত-বিএনপির সাথে। বিষয়টি আওয়ামী রাজনীতির ভিতর ঘোপটি মেরে থাকা জামায়াত-বিএনপির এজেন্টরা মেনে নিতে না পেরে তাকে ও তার পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জর্জরিত করে ফেলে।

এছাড়াও বিগত জামায়াত-বিএনপির আমলে তাকেসহ তার পুরো পরিবারকে জেল হাজতে কাটাতে হয়েছে। এমনকি তার পিতা রমিজ আহমদকে দীর্ঘ ৫টি বছর তার বাড়ির পার্শ্বে চৌমহুনীতেও আসতে দেয়নি তারা। এদিকে বর্তমান ইউপি নির্বাচনে ৯ওয়ার্ডের সভাপতি/সম্পাদকের মতামত চাওয়া হলে উপজেলা কার্যালয়ে তাকে ১৮জনের মধ্যে ১৪জন সভাপতি/সম্পাদক মতামত দিয়ে একক চেয়ারম্যান প্রার্থী করার লিখিত দাবী জানান। বিষয়টি উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাড:কামাল হোসেন ও যুগ্ন-সম্পাদক লিখিত ওই আবেদন জেলা ও কেন্দ্র বরাবর প্রেরণ করেন। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও উপজেলা আওয়ামীলীগ মেনে নিতে না পেরে আবারো চক্রান্ত শুরু করে। শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয় এ নেতাকে ইউপি নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে অপকৌশলে মেতে ওঠে তারা। অভিযোগ রয়েছে বিএনপি জামায়তের ইন্ধনে তারা এ অপকর্ম শুরু করেছে।
সদরের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ফরিদুল আলম, ৮নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হকসহ অনেকে জানান, জাহাঙ্গীর আলমকে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে একক প্রার্থী ঘোষনা করা হলে বিএনপির দখল থেকে সদর ইউপিকে রক্ষা করতে পারবেন। অন্য কাউকে এখানে প্রার্থী করলে ঠিক আগের মতোই বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবে।