জাল দলিল সৃজন করে সংখালঘু সম্প্রদায়ের বিপুল পরিমাণ জমি দখল

প্রকাশ:| রবিবার, ১৯ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৮:২৯ অপরাহ্ণ

স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পাকহানাদার বাহিনীকে সহায়তা করে, হত্যা, লুট, ধর্ষন করে ক্লান্ত হয়নি রাজাকার এজাহার মিয়া0
শফিউল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষন, বাড়ীঘর পুড়িয়ে ক্লান্ত হয়নি রাজাকার এজাহার মিয়া, সংখালঘু সম্প্রদায়ের বিপুল পরিমাণ জমি, পুকুর বসত ভিটা জাল দলিল করে হাতিয়ে নিয়েছে । ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে পাকহানাদার বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা প্রদানকারী রাউজান উপজেলার সুলতানপুর কাজী পাড়া এলাকার আবদুর রহমানের পুত্র এজাহার মিয়া এলাকায় হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষনের ঘটনা সংগঠিত করে পাকহানাদার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে । এজাহার মিয়া সশস্ত্র রাজাকারের সদস্য হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন । স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে রাউজানের গহিরা, জগৎ মল্ল পাড়া,বড়পোল পালিত পাড়া, কুন্ডেশ্বরী, প্রসন্ন প্রাইমারী বণিক পাড়া, ছিটিয়া পাড়া, রাউজান পালিত পাড়া, উনসত্তর পাড়া, নোয়াপাড়া এলকায় রাজাকার আলবদর বাহিনীর সদস্যরা সংখালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ী ঘর জ্বালিয়ে দেয় ও ঘরবাড়ীর মালামাল লুট করে নিয়ে যায় । এসময়ে রাউজানে একশত উনষ্টা জন সংখালঘু নারী পুরষকে হত্যা করা হয় । দশজন স্বাধীনতার স্বপক্ষের মুসলিমকে হত্যা করা হয় । স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে সুলতান পুর এলাকার জমিদার নিত্য নন্দ বিশ্বাসের বংশধর ১৯৭৮ সালের ৬ জুন তারিখের মণি ভুষন বিশ্বাসের কাছ থেকে দানপত্র কবলা মুলে মালিক হয়েছে দাবী করে রাজাকার এজাহার মিয়া তাদের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি দখল করে নেয়। জমিদার নিত্য নন্দ বিশ্বাসের এই সম্পত্তি নিত্য নন্দ জমিদার জীবিত থাকা অবস্থায় ১৯৩৫ সালের ২২ মে ১০৬১ নং কবলামূলে তার তিন পুত্র পুত্র হরিচন্দ্র বিশ্বাস, ও প্রসন্নবিশ্বাস,চষ্টি চরণ বিম্বাসের নামে অংশনামা করে দেয় । দেশের প্রচলিত আইনে কোন হিন্দুর সম্পত্তি মুসলমানকে দান পত্র করে দেওয়ার আইন না থাকলে ও রাজাকার এজাহার মিয়া ভুয়া দানপত্র সৃজন করে সংখালঘু সম্প্রদায়ের বিপূল পরিমান জমির মালিক হয়ে যায় । রাজাকার এজাহার মিয়ার দখলে থাকা বিপুল পরিমাণ জমি এলাকার প্রভাবশালী ব্যুিক্তদের কাছে বিক্রয় করেন । রাজাকার এজাহার মিয়ার দখলে থাকা সংখালঘু সম্প্রদায়ের বিপুল পরিমান জমি রাউজানের সুলতান পুর দাইয়্যার ঘাটা থেকে জানালী হাট পর্যন্ত চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কের দুইপার্শ্বে রয়েছে । রাজাকার এজাহার মিয়ার দখলে থাকা সংখালঘু সম্প্রদায়ের বিপুল পরিমান জমি এখন হাত বদল হয়ে রাউজানের দুই প্রভাব শালী ব্যক্তি ক্রয় করছে বলে দাবী করে দখল করে রেখেছে । জমিদার নিত্য নন্দ বিশ্বাসের বংশধর খোকন বিশ্বাস বলেন, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির দাবী করলে আমাকে ও অমার পরিবারের সদস্যদের মারধর করে ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করে আসছে । খোকন বিশ্বাসের ছেলে প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, আমার বংশধরেরা আমাকে আমোক্তারনামা প্রত্র প্রদান করার পর আমি আমার সম্পত্তি ও আমোক্তারনামামুলে সম্পত্তির জন্য আদালতে মামলা দায়ের করি । একটি মামলার রায় পেয়ে আদালতের মামলার রায় পাওয়া জায়গা থেকে কিছু জায়গা খোরশেদের কাছে বিক্রয় করি । আমি আমার পুর্ব পুরুষের সম্পত্তি ফিলে পেতে মামলা করায় আমাকে ও আমার বোন লক্ষি বিশ্বাস, ভাইকে বেদশ ভাবে প্রহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তির ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা । স্বাধীনতার পর রাজাকার এজাহার মিয়া জাল দানপক্র কবলা সৃজন করে সংখালঘু সম্প্রদায়ের বিটুল পরিমাণ সম্পত্তি ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি আর্কর্ষন করেন প্রদীপ বিশ্বাস । ১৯৭১ সালে সুলতান পুর এলাকায় সংখালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে হত্যা, ঘরবাড়ী পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ১৯৭২ সালের ৩০ মার্চ সনাতন বিশ্বাস বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন । মামলা নং- জি আর ৩০(৩) ৭২, ধারা । ঐ মামলায় রাজাকার এজাহার মিয়াকে ও অনান্য আসামীদের সাথে আসামী করা হয় । গত কয়েংক বৎসর পুর্বে রাজাকার এজাহার মিয়া মারা যাওয়ার পর তার ছেলে রাজা মিয়া রাজাকার এজাহার মিয়ার দখলে থাকা সম্পত্তি জোর পুর্বক দখল করে রেখে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে বিক্রয় করছে । এলাকার সংখালঘু পরিবার যাদের সম্প্িত্ত রাজাকার এজাহার মিয়া দখল করে সেই সব পরিবারের সদস্যদের রাজাকার এজাহার মিয়ার পুত্র রাজা মিয়া হুমকি প্রদান করছে বলে অভিযোগ করেন প্রদীপ বিশ্বাস ।