‘জালিম সরকারের বিরুদ্ধে ২০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ’

প্রকাশ:| বুধবার, ৯ জুলাই , ২০১৪ সময় ১১:০৯ অপরাহ্ণ

'জালিম সরকারের বিরুদ্ধে ২০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ'দেশের মানুষ জালিম সরকারের হাত থেকে বাঁচতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০দলীয় জোট নেতা খালেদা জিয়া। বলেছেন, দেশের অবস্থা খুবই নাজুক। খুন-গুম, রাহাজানি নিত্যকার ঘটনা হয়ে উঠেছে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই, মানুষ দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে ঠিকভাবে রোজা পালন করতে পারছে না। বিরোধী দল দমনে ব্যস্ত এই অত্যাচারী জালিম সরকারের হাত থেকে জনগণ বাঁচতে চায়। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সাংবাদিকদের সম্মানে জামায়াত আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়া বলেন, সরকার দেশকে একেবারে শেষ করে দিয়েছে। ব্যাংক লুটপাট আর খুন-গুম ছাড়া সরকার দেশের মানুষকে কিছুই দিতে পারেনি। সরকারের সঙ্গে জনগণ নেই। সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। তারা টাকার বিনিময়ে র‌্যাবকে দিয়ে খুন-গুম করানো হচ্ছে এটা দেশের মানুষ জানে। এভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তাই অবিলম্বে র‌্যাবকে বাতিল করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। ঈদের পর সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে খালেদা জিয়া সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বলেন, দেশকে এই সংকট থেকে রক্ষা করতে হবে। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ আমাদের পক্ষে রয়েছে। সেটা তারা ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে প্রমাণ দিয়েছে। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। যারা দেশের ক্ষতি করছে তাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। গুম, খুন, অপহরণে অভ্যস্ত তারা। শুধু জামায়াত বা ২০ দলীয় জোটের নেতারাই নন, শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ কেউই এই সরকার থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। সরকারের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাই। ইফতারে ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে- এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গণি, ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শওকত মাহমুদ, ডা. জাহিদ হোসেন, এডভোকেট জয়নাল আবেদীন, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, খেলাফত মজলিশের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীরপ্রতীক, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, এনপিপির সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু, হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মোবিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের সভাপতি এইচএম কামরুজ্জামান, এনডিপির গোলাম মর্তুজা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ যোগ দেন। বিশিষ্টজনদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ, কবি আল মাহমুদ, সাংবাদিক শফিক রহমান, সাদেক খান, প্রফেসর মাহবুব উল্লাহ, জাবির প্রফেসর তারেক শামসুর রহমান, দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, আবদুল হাই শিকদার, এম আবদুল্লাহ ও ইলিয়াস খান অংশ নেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ও নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, আইনবিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, অধ্যক্ষ যাইনুল আবেদীন, এডভোকেট মশিউল আলম,এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, মোবারক হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।