জাম খেলে কর্মশক্তি বাড়ে

প্রকাশ:| বুধবার, ২৪ জুন , ২০১৫ সময় ০৯:৫৯ অপরাহ্ণ

জামপুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ফলগুলোর মধ্যে জাম অন্যতম। হালকা টক ও মিষ্টি স্বাদের এই ফলটি ঠাণ্ডাজনিত যে কোন সমস্যা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। শুধু তাই নয়, দাঁত, চুল ও ত্বক সুন্দর করতেও অবদান রাখে গ্রীষ্মকালীন এই ফলটি। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, স্যালিসাইলেট, গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফুকটোজসহ আরও অসংখ্য উপাদান। এই উপাদানগুলো শুধু ক্লান্তি দূর করতেই সাহায্য করে না, একইসঙ্গে কাজ করার শক্তিও জোগায়। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও ভীষণ উপকারী এই জাম।

জেনে নিন জামের নানা গুণের কথা-

কর্মশক্তি বাড়ায়
জামে মানবদেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন-গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ রয়েছে, যা কাজ করার শক্তি জোগায়। কাজেই কর্মশক্তি বাড়াতে নিয়মিত জাম খাওয়ার বিকল্প নেই।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করে
এতে কম পরিমাণে ক্যালোরি থাকায় তা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কাজেই যারা ওজন কমানোর চিন্তায় অস্থির হয়ে আছেন তারা নিশ্চিন্তে খাদ্য তালিকায় খাবারটি রাখতে পারেন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে
রক্তে পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে জাম। কাজেই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি খুবই উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত জাম খাওয়ার ফলে ৬.৫ শতাংশ মানুষের ডায়াবেটিক কমে গেছে।

হার্ট ভালো রাখে
জাম রক্তে কোলস্টোরেলের মাত্রা কমিয়ে হৃদপিন্ড ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া শরীরের দূষিত কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ফলটি।

উচ্চ রক্তচাপ কমায়
জামে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। কাজেই রক্তচাপ কমাতে জাম খাওয়ার বিকল্প নেই।

রোগ প্রতিরোধ করে
জামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা দেহে ভিটামিন সির অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়া মুখের দুর্গন্ধ রোধ, দাঁত মজবুত, মাড়ি শক্ত এবং মাড়ির ক্ষয়রোধেও জুড়ি নেই জামের।

রক্তস্বল্পতা দূর করে
জামে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন আছে যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে বিদ্যমান পানি, লবণ ও পটাশিয়ামের মতো উপাদান শারীরিক দুর্বলতাকে দূর করতেও সক্ষম।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
জামে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার থাকায় তা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। কাজেই যারা এ সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়মিত জাম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে
জামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা মানবদেহের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি ক্ষতিকর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এছাড়া হৃৎপিণ্ডের অসুখ, জরায়ু, ডিম্বাশয়, মলদ্বার ও মুখের ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে ফলটি।

সারাদিন রোজা রেখে ইফতারির পর স্বভাবতই শরীর অনেক নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখন জামই পারে কেবল আপনার কর্ম চাঞ্চল্য আবারও ফিরিয়ে আনতে। কাজেই কর্মশক্তি বাড়াতে প্রতিদিনই ইফতারির পর জাম খাওয়ার চেষ্টা করুন। তাতে শুধু আপনার কর্মশক্তি ফিরে আসবে না, একইসঙ্গে সুস্থও থাকবেন।


আরোও সংবাদ