‘জামায়াত-শিবির’ এজেন্টদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারির পর হামলা

প্রকাশ:| রবিবার, ২২ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৫০ অপরাহ্ণ

ছাত্রলীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা ‘জামায়াত-শিবির’ এজেন্টদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তব্য দিয়ে ফেরার পর হামলার শিকার হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালেদ হাসান বিপ্লব। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেলের আঘাত থেকে বেঁচে গেলেও ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন খালেদ হাসান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন। ঘটনার পর তাৎক্ষণিক কাজলা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশ। হামলার সময় শুরুতে ‘জয় বাংলা’ এবং ‘নারায়ে তকবির’ স্লোগান দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি হল শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালেদ হাসান। সম্মেলন শেষে কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বাজে কাজলা এলাকায় নিজ বাড়িতে যান খালেদ। বাড়ি থেকে বের হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন খালেদ হাসান, ইকবাল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ ও নয়ন।

ওবায়দুর রহমান জানায়, এ সময় ২০-২৫ জন দুর্বৃত্ত জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসে। এরপর নারায়ে তাকবির স্লোগান দিয়ে তাদের লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় দুটি গুলিও করা হয়। এ সময় খালেদ কাজলা গেটে দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহযোগিতা চান। পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পালানোর সময় হামলাকারীদের ইটের আঘাতে আহত হন খালেদ ও ইকবাল হোসেন।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, সম্মেলনে খালেদ হাসান বিপ্লব ছাত্রলীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত-শিবিরদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের মধ্যে যদি কোনো এজেন্টের পরিচয় পাই, আমি খালেদ হাসান বিপ্লব বলছি, আপনাদের কোনো ছাড় হবে না।’ অতীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের ভেতরে থাকা একটি অংশের যোগসূত্র রয়েছে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন খালেদ।

খালেদ হাসান বিপ্লব বলেন, ‘হামলাকারীরা আমাকে লক্ষ্য করে দুটি ককটেল ও দুই রাউন্ড গুলি করে। সৌভাগ্যক্রমে আমার লাগেনি।’ হামলার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সম্মেলনে আমি জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে বক্তব্য দিয়েছি। তারই জের ধরে জামায়াত-শিবির এই হামলা চালিয়েছে বলে আমি মনে করছি।’

নগরের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির রাত পৌনে ৮টার দিকে বলেন, ‘হামলাকারীদের ধরতে আমরা ঘটনাস্থলের আশপাশে অভিযান চালাচ্ছি। এখনো কাউকে আটক করা যায়নি।’


আরোও সংবাদ