জামায়াতে নিমজ্জিত হওয়ায় বিএনপির কাছে প্রত্যাশার কিছু নেই

প্রকাশ:| শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৮:২৫ অপরাহ্ণ

খালেদা জিয়া আকণ্ঠ জামায়াতে নিমজ্জিত হওয়ায় বিএনপির কাছে প্রত্যাশার কিছু নেই উল্লেখ করে ঐক্য ন্যাপের কেন্দ্রীয় সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য বলেছেন, আওয়ামী লীগে যদি হাঁটু পরিমাণ জামায়াতের অনুপ্রবেশও ঘটে তবে তা শুধু দলটির জন্য নয়, আমাদের জন্যও বিপদ। সাতকানিয়ায় ইউপি নির্বাচন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুজন যুদ্ধাপরাধীসহ জামায়াতীদের আওয়ামী লীগে যোগ দিতে দেখেছি।

শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে ভাষাসংগ্রামী, রাজনীতিক একেএম এমদাদুল ইসলামের নাগরিক শোকসভায় এসব কথা বলেন।

পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে রক্ষা করা শুধু আওয়ামী লীগের কাজ নয়। এটি জাতীয় কর্তব্য। এখন জাতীয় কর্তব্য পালনের সময় এসে গেছে। শুধু মাহেন্দ্রক্ষণের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে বলেছিলেন জীবনে বড় ভুল করার কথা। সেটি হলো মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে বিনির্মাণ করতে গিয়েছিলেন পাকিস্তানি প্রশাসন দিয়ে। এ ভুলের মাশুল থেকে জাতিকে বাঁচাতে আত্মসমালোচনা, আত্মসংশোধন ও আত্মশুদ্ধির কথা বলেছিলেন তিনটি জায়গায়, প্রশাসনে, দলে এবং সরকারে।

পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, কেন বঙ্গবন্ধু কন্যার প্লেন চলাকালীন সমস্যা কেন হবে। কেন নাটবল্টু আলগা হয়েছে। বিমান কোম্পানি বলেছে, তিন হাজার প্লেন বিক্রি করেছি, কোথাও এ ঘটনা ঘটেনি।

হেফাজত ঢাকায় যদি ওই রাত থাকতে পারত তবে পলাশীর আম্রকাননের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটত। সেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের মধ্যরাতে বিতাড়িত করা সম্ভব হয়েছে। এটি সমন্বিত উদ্যোগ ছিল। এখন তারা যদি বিনাযুদ্ধে পাঠপুস্ককে হেফাজতীকরণ করে ফেলতে পারে তবে শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে হবে।

চলমান রাজনীতির সমালোচনা করে পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, জাতির বিকাশের জন্য যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল সেই রাজনীতি আজ নাগালের বাইরে চলে গেছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেছেন, সংসদে শতকরা ৮৪ জনই ব্যবসায়ী, রাজনীতিকরা সংখ্যালঘু।

দেশে যে রাজনীতি চালু আছে তা প্রত্যাশিত নয় উল্লেখ করে পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, প্রকৃত রাজনীতি হাতছাড়া হয়ে গেছে। এমদাদুল ইসলাম বহুমাত্রিক গুণের রাজনীতিক ছিলেন। তিনি জাতিকে দেওয়ার জন্য রাজনীতি করতেন, নেওয়ার জন্য নয়। আজকের রাজনীতি সংস্কৃতি বিবর্জিত। পড়ালেখা করে রাজনীতিক হওয়ার চল উঠে গেছে। বাগাড়ম্বর, স্তুতিবাদ, নিন্দাবাদ রাজনীতির বৈশিষ্ট্য হয়ে গেছে। দায়বদ্ধতার রাজনীতির আজ সংকট চলছে। সংসদে মেপে কথা বলতে হচ্ছে। রাজনীতিকদের অঙ্ক কষে চলতে হচ্ছে। এমন কৌশল নিতে হচ্ছে আমাদের পূর্বপুরুষদের রাজনীতিতে ছিল না।

নাগরিক শোকসভা কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীনের সভাপতিত্বে এমদাদুল ইসলামের জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করেন ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সিকান্দার খান, কমরেড শাহ আলম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সভাপতি মোহাম্মদ হারুণ, গণফোরামের মহানগর সাধারণ সম্পাদক জানে আলম, ন্যাপ (মোজাফফর) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী নেওয়াজ খান, আদিবাসী ফোরামের সভাপতি শরৎ জ্যোতি চাকমা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রতন কুমার রায়, অ্যাডভোকেট রফিকুল আনোয়ার, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, অ্যাডভোকেট শফিউল আলম, এমদাদুল ইসলামের একমাত্র ছেলে ফয়েজ মোহাম্মদ, শোকসভা কমিটির সমন্বয়ক বালাগাত উল্লাহ ও সদস্যসচিব এটিএম পেয়ারুল ইসলাম।


আরোও সংবাদ