জামায়াতের হরতাল প্রতিহতের আহ্বান গণজাগরণের

প্রকাশ:| বুধবার, ৬ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:৫১ অপরাহ্ণ

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দন্ড বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করছে গণজাগরণ মঞ্চ। বুধবার সকালে আপিল বিভাগ কর্তৃক নিজামির মৃত্যুদন্ড বহালের রায় আসার পর রাজধানীর শাহবাগে আনন্দ উল্লাস করেন মঞ্চের কর্মীরা। পরে শাহবাগ থেকে একটি বিজয় মিছিল বের করে কর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এসে ফের শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে সকাল ৮টা থেকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে গণজাগরণ মঞ্চ। এসময় নিজামির সর্বোচ্চ শাস্তি, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধী সাঈদির মামলার রিভিউর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘একাত্তরের ঘৃণ্য আলবদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর সর্বোচ্চ শাস্তির রায় বহাল থাকায় কলঙ্কমুক্তির দিকে আরো একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড এবং পাবনার বিস্তৃত এলাকা, বিশেষ করে সাঁথিয়ায় নিজামীর নেতৃত্বে যে গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে সেই হত্যাকান্ডের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এই যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকর করার মাধ্যমে।

নিজামীর রায়ের জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল প্রতিহত করার ডাক দিয়ে ইমরান বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে হরতাল কেন, কোনো কর্মসূচি পালনের অধিকার নেই এই সংগঠনের। হরতাল ডেকে তারা প্রমাণ করল, একাত্তরে তারা যেমন বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে, ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাদের চক্রান্ত অব্যাহত আছে। এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে জামায়াতের ডাকা আজকের হরতাল প্রতিহত করার আহ্বান জানান। একই সাথে আজ সকাল ১০টা থেকে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের হরতাল বিরোধী অবস্থানের ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘নিজামীর কেবল গণহত্যাকারীই না, সে মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের বিরোধিতা করে ‘পাকিস্তান পুনরুদ্ধার আন্দোলন’ চালিয়ে গেছে। রাষ্ট্রদোহীতার অপরাধেও সে দায়ী। যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর আমীর হয়ে সে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা গাড়িতে উড়ানোর মত ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।’

নিজামীর রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানপন্থী যেসব রাজনীতিবিদ এই যুদ্ধাপরাধীদেরকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করে ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দিয়েছে, এই রায় সেই রাজনীতিবিদদের মুখে চপেটাঘাত হিসেবে থাকবে।’