জামায়াতসহসাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে ঐক্যবদ্ধ প্রস্তুতি দরকার চবি ভিসি

প্রকাশ:| শনিবার, ১১ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৮:৫৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরেণ্য বুদ্ধিজীবী প্রফেসর মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফ চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দুঃসময়ে যারা নানা অজুহাতে বিভেদের বেড়াজাল তৈরি করতে সদা তৎপর তারাই বর্ণচোর। তাদের চিহ্নিত করে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
জামায়াতসহ যেকোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে ঐক্যবদ্ধ প্রস্তুতি দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সরলতার সুযোগে যারা আমাদেরই দুর্বল করতে চাইছে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর মত তাদেরও বয়কট করতে হবে।
পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি সূচনা বক্তব্যে বলেন, দেশের ক্রান্তিকালে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে যারা শুধুমাত্র নিজেদের জাহির করার জন্য মৌসুমী আন্দোলনের নেতা সাজতে চাইছেন প্রকারন্তরে তারাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করছেন।
জাতির দুঃসময়ে তথাকথিত সংস্কৃতির দোকানদের ব্যবসা বন্ধ করার আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এ নগরে দেখেছি সুশীল ভেকধারীরা কিভাবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পেছনে ছুরি চালায়। ইতোমধ্যে এসব বর্ণচোর চিহ্নিত হয়েছেন। চিহ্নিত সুশীল নামধারী এবং সংস্কৃতির দোকানীদের বিরুদ্ধে প্রকৃত সচেতন নাগরিকরা অচিরেই শুদ্ধি অভিযানে নামবেন।
গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদের সমন্বয় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদের আহবায়ক প্রফেসর মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ও জেলা নির্মূল কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সীমান্ত তালুকদারের সঞ্চালনায় সংগঠনের বিগত কার্যক্রমের যাবতীয় বিষয় উপস্থাপন করে সূচনা বক্তব্য দেন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শওকত বাঙালি। আলোচনায় অভিমত ব্যক্ত করেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অধ্যাপক এ.কে.এম নাসিমুল কামাল, মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ সভাপতি প্রফেসর ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মহসিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. সেকান্দর চৌধুরী, প্রফেসর বেনু কুমার দে, সম্মিলিত আবৃত্তি জোটের সহ-সভাপতি শিক্ষক নেতা অঞ্চল চৌধুরী, পরিষদের যুগ্ম-সচিব ও জেলা নির্মূল কমিটি নেতা অলিদ চৌধুরী, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান শিবলী, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুরজিৎ দত্ত সৈকত, নয়ন কান্তি ধুম, জেলা নির্মূল কমিটি নেতা মাউসুফ উদ্দিন মাসুম, নিখিলেশ সরকার রাজ, অভি চৌধুরী, মঈদুল ইসলাম, বাবলু আচার্য শ্রাবণ, রাসেল দে প্রমুখ।
সভায় সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী গণসম্মিলনের যাবতীয় আয়-ব্যয়সহ বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরা হয়। অচিরেই নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আক্রান্ত এলাকা এবং জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় সম্প্রীতি পরিষদের কার্যক্রম বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং অপর এক প্রস্তাবে সভা শেষে নির্বাচনে জামায়াত-বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত সাতকানিয়ার প্রিসাইডিং অফিসার প্রফেসর জামাল উদ্দিনকে দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদ ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতৃবৃন্দ। এসময় তাঁরা প্রফেসর জামালের চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজ খবর নেন এবং হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ প্রফেসর জামাল এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
নির্মূল কমিটি জেলা আহবায়ক ও সম্প্রীতি পরিষদের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সীমান্ত তালুকদারের নেতৃত্বে এসময় অন্যদের উপস্থিত ছিলেন শহীদ মুরিদুল আলমের সন্তান তরুণ রাজনীতিক মাহবুবুর রহমান শিবলী, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা শওকত বাঙালি, জেলা নেতা অলিদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুরজিৎ দত্ত সৈকত প্রমুখ।


আরোও সংবাদ