জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ মিজানুরের দফান সম্পন্ন

প্রকাশ:| সোমবার, ২ জুন , ২০১৪ সময় ০৯:২৫ অপরাহ্ণ

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আতঙ্ক এখনো কাটেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান ॥
জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ মিজানুরের দফান সম্পন্নবান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আতস্ক এখনো কাটেনি। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীর গুলিতে শহীদ হওয়া পাইনছড়ি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মিজানুর রহমানের দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল নয়টা পাঁচ মিনিটের সময় নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ৩১ ব্যাটেলিয়ানের মাঠে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজ শেষে নিহতের আত্মার মাগফেরত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয় নিহতের বীর সৈনিকের প্রতি। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বিজিবি চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহম্মদ আলী, বান্দরবান ৬৯ সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রীগেডিয়ার জেনারেল নকীব আহমেদ চৌধুরী, কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল খন্দকার ফরিদ হাসান, বান্দরবান বিজিবি সেক্টর কমান্ডার সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল সাইফুল ইসলাম, বিজিবি নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক লে: কর্নেল শফিকুর রহমান, নাইক্ষ্যংছড়ি ইউএনও শাহেদুল ইসলাম’সহ বিজিবি, প্রশাসন’সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেয়। পরে সকাল এগারোটায় নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটেলিয়ান মাঠ থেকে হেলিকপ্টারযোগে মিজানুরের মৃতদেহটি গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে নেয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় দফায় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। এদিকে তারআগে সকাল পোনে নয়টায় নিহত বিজিবি সদস্যের মৃতদেহ কক্সবাজার বিজিবি সেক্টর থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাড়ীতে করে শেষকর্মস্থল নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ ব্যাটেলিয়ানে আনা হয়। গত রোববার দুপুরে পোনে একটার সময় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ট্রাকে করে নিহত বিজিবি জোয়ানের মৃতদেহ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী লেম্বুছড়ি ক্যাম্প থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বিজিবি ব্যাটেলিয়ান সদরে আনা হয়। সেখান থেকে ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহটি নেয়া হয়েছিল কক্সবাজার বিজিবি সেক্টরে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবি ৩১ ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক লে: কর্নেল শফিকুর রহমান।
এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে উত্তেজনা এখনো কাটেনি। মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এবং বিজিপি। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে নাইক্ষ্যংছড়িতে। ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়া সীমান্ত অঞ্চলের মানুষেরাও এখনো উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় ঘরে ফিওে আসেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রসঙ্গত: গত বুধবার সকালে (২৮মে) নাইক্ষ্যংছড়িতে দৌছড়ি সীমান্তে বিজিবি টহল দলের উপর গুলি বর্ষণ করেন মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাইনছড়ি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান মারা যান। মৃত্যুর পর অস্ত্র’সহ বিজিবি সদস্যের লাশ নিয়ে যান মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীরা। ঘটনার তিনদিন পর শনিবার বিকাল পাঁচটায় বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লাশ হস্তান্তর করেন মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী।


আরোও সংবাদ