জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৭ মে , ২০১৮ সময় ০৬:৫২ অপরাহ্ণ

জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের দাবিতে প্রেসক্লাব চত্বরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রসেনার মানববন্ধন
বাজেটে শিক্ষাখাতে ২৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিব অধ্যাপক সৈয়দ জালাল উদ্দীন আজহারী বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশসমূহে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ ও মালেশিয়া একই সময়ে স্বাধীনতা লাভ করলেও শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের কারণে মালেশিয়া আজ উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে। অথচ বাংলাদেশ এখনো কাক্সিক্ষত লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। কারণ এখনো আমাদের দেশে শিক্ষাখাতকে সর্বোত্তম বিনিয়োগ খাত হিসেবে চিহ্নিত করতে পারিনি। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। যে জাতি যতবেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত। জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা খাতের চেয়ে যদি শিক্ষা খাতকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয় তবেই ভবিষ্যতে একটি উন্নত জাতি হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠিত হতে পারব। এমনকি আফ্রিকার দারিদ্রপীড়িত কেনিয়া জাতীয় বাজেটের ৩১% এবং সেনেগাল ৪০% শিক্ষা খাতে বরাদ্ধ রাখে। আমাদের দেশে জিডিপির ২.২ শতাংশ যা বহু বছর ধরেই একই রয়ে গেছে। সার্কভুক্ত দেশ মালদ্বীপ তাদের জিডিপির ৮.৫ শতাংশ ব্যয় করে শিক্ষার পেছনে। নেপাল ৪.৭ শতাংশ, পাকিস্তানও প্রায় ৫ শতাংশ, ভারত ৩ শতাংশ। তাই আগামী বাজেটে শিক্ষাখাত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাজেট বাড়াতে হবে।
আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের দাবিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্র ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১৩ মে’১৮ রবিবার বিকাল ৩ টায় ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধনে দক্ষিণ জেলা সভাপতি নুরুল ইসলাম হিরুর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিব অধ্যাপক সৈয়দ জালাল উদ্দীন আল-আজহারী। উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ইসলামী ফ্রন্ট সিনি. সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুল মাবুদ। প্রধান বক্তা ছিলেন ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ বক্তা ছিলেন ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সদস্য মুহাম্মদ মহিউদ্দিন চৌধুরী। মানববন্ধন প্রস্তুতির কমিটি’১৮ আহ্বায়ক মুহাম্মদ মামুন উদ্দিন ও সদস্য সচিব মুহাম্মদ জুননুরাইন খোকন’র যৌথ সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আবদুল মোতালেব সিদ্দিকুন নূরী, দক্ষিণ জেলার সাবেক সভাপতি নিজামুল করিম সুজন, দৈনিক মানবকণ্ঠ’র চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন খোকন, সুপ্রিম কোর্ট’র আইনজীবী এ্যাডভোকেট সৈয়দ মোখতার আহমদ সিদ্দিকী, কর্ণফুলি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে’র প্রভাষক আজিম উদ্দিন আাহমদ জনি প্রমুখ।
প্রধান বক্তা মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সরকার শিক্ষা খাতের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেও বাজেটে তার প্রতিফলন ঘটছে না। বাজেটে সামগ্রিক ব্যয় কাঠামো (উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন) বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ কিছু বাড়লেও শতাংশে তা কমেছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি দুইটি খাত মিলিয়ে ১৬.৪% বরাদ্ধ দিয়েছে। এর মধ্যে সামরিক বাহিনী পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দও সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রযুক্তিখাত ও সামরিক বাহিনীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বাদ দিলে শিক্ষাখাতে বাজেট ১০% এর নিচে চলে আসে। ইহা এক প্রকার শুভঙ্করের ফাঁকি, জনগণকে বোকা বানানোর নামান্তর। বিশ্বের সর্বোচ্চ শিক্ষা বিষয়ক সংগঠন ঊফঁপধঃরড়হ ঋড়ৎ অষষ (ঊঋঅ) এর সুপারিশ ও ইউনেস্কোর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক দেশকে শিক্ষা খাতে নিজ দেশের জিডিপি’র ৬ শতাংশ অথবা জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্ধ রাখতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থী বেড়েছে, শিক্ষক বেড়েছে, ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী বাজেটে বরাদ্দ বাড়েনি। যদিও মোটের ওপর অনেক মনে হচ্ছে কিন্তু শতকরা হিসেবে তা নিতান্তই অপ্রতুল। তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় শিক্ষাখাতকে লাভজনক খাত হিসেবে চিহ্নিত করে বাজেটে জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষাখাতের চেয়ে বেশি বরাদ্দ দিতে হবে। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক দিক বিবেচনায় শিক্ষাখাতে বাজেটের ২৫ শতাংশ ও জিডিপির ৮ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে। জেলা নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রুবেল, এইচ এম এনামুল হক, সৈয়দ নুর আলম, নুরের রহমান রনি, শহীদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান প্রমুখ।