‘জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারকদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে’

প্রকাশ:| বুধবার, ১০ আগস্ট , ২০১৬ সময় ০৮:০৯ অপরাহ্ণ

মানসিকতার পরিবর্তনমন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তাকে প্রত্যাশিত বরাদ্দের ৫ শতাংশ দিতে না পারায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম অর্থবছরে (২০১৫-১৬) কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

বুধবার (১০ আগস্ট) থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে ‘স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ শহর’ শীর্ষক নগর সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা তুলে ধরে মেয়র বলেন, যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এসেছিলেন। তিনি একটি নতুন পাজেরো জিপ চান। সেটি দিলে নাকি চসিকের প্রকল্প অনুমোদন বা পাসে কোনো সমস্যা হবে না। আমি কোথা থেকে জিপ দেবো? কেন দেবো?

একনেকে পাস হওয়ার পরও বরাদ্দ ছাড় করাতে নানা আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বরাদ্দের ৫ শতাংশ দিয়ে দিলে নাকি যত বরাদ্দ চাইবো পাবো। আমি কোথা থেকে দেবো, কোন খাতে দেখাবো জানতে চাইলে বলা হলো, ঠিকাদারের কাছ থেকে ম্যানেজ করতে। এ কথার কোনো যুক্তি আছে? আমি চোর হয়ে আপনার পকেট ভারী করবো? গত অর্থবছরে সাধারণভাবে আমরা পেলাম ৮০ কোটি টাকা। ৫ শতাংশ দিলে ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা পেতাম! এই হলো বাস্তবতা।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, জনপ্রতিনিধিদের ভয় থাকে। কারণ তাদের মানুষের কাছে যেতে হবে। তাই আমি কাজ করার চেষ্টা করি। আমাদের কাজ করার মানসিকতা আছে। কিন্তু পরিবেশ অনুপস্থিত। জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারকদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।

সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আন্তরিকতা, দেশপ্রেমের অভাব এবং আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। সিস্টেমের কোথাও গলদ হলে কাজ হবে না। বারইপাড়া থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে কত আগে। সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভাটি হয়। এখন অর্থছাড়ে নানা জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। অথচ ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা। অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ ছাড় না দিলে কিছুই করার নেই। তখন হয়তো আবার পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হবে। সেখানে আমাকে পছন্দ না করলে টেনে আনা হবে। ব্যর্থতার দায় চাপানো হবে।

তিনি বলেন, তীর আমাদের দিকে। জবাবদিহি আমাদের। হাত-পা বেঁধে বলে সাঁতার কাটো। মন্ত্রণালয় যদি প্রকল্প অনুমোদন না করে, সিদ্ধান্ত ওকে না করে, বরাদ্দ না দেয় তবে কিছুই করা যাবে না। প্রতি দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম দৌড়ঝাঁপ করা সম্ভব নয়। কেউ করতে পারলে সেটি ব্যতিক্রম। আমার বন্ধুরা বলেন, সপ্তাহে দুদিন ঢাকায় গিয়ে থেকে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার জন্যে। তারা বলে, তেল মেরে হাজিরা দিয়ে কাজ আদায় করতে হবে। মেয়রের দায়িত্বের মধ্যে কি সেটি লেখা আছে?

সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার সভাপতি এম আলী আশরাফ, ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশের রিজিওনাল ফিল্ড ডিরেক্টর অঞ্জলি জাসিন্তা কস্তা, ব্র্র্যাকের পরিচালক কেএএম মোর্শেদ। চসিকের সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম নগর সংলাপ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শ্যামল ফ্রান্সিস রোজারিও।

সংলাপে ‘শিশু সুরক্ষা ও উন্নয়ন’, ‘পানি, পয়োনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতা’ ও ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন স্থপতি জেরিনা হোসেন, চুয়েটের অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার পালিত ও সৌরভ দাশ।


আরোও সংবাদ