জাতীয় দলের বহু খেলোয়াড়ের জন্ম দেয়া কাপ্তাইয়ের সব মাঠ ফাঁকা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৮:২৯ অপরাহ্ণ

নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই।

জাতীয় দলের বহু খেলোয়াড়ের জন্ম দেয়া কাপ্তাইয়ের মাঠ গুলি ফাঁকাএক সময় বিভিন্ন খেলাধুলায় জমজমাট থাকা কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন মাঠগুলো এখন ফাঁকা। এসব মাঠ বর্তমানে গো-চারন ভূমিতে পরিণত হয়েছে। কোন রকম খেলা নেই বললেই চলে। এমনও সময় ছিল যখন উপজেলার ১৬টি খেলার মাঠ থাকতো সরগরম। কাপ্তাইয়ের প্রধান আর্কষণীয় খেলা ছিল ফুটবল।
এছাড়া এ্যাথলেটিকস্, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাটমিন্টন, হকি, বাস্কেটবল ও স্থানীয় ক্লাব গুলিতে দাবা, ক্যারাম ইত্যাদি খেলা হতো। অথচ এই কাপ্তাইয়ের বহু খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে খেলে ব্যাপক সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এদের কয়েকজন হলেন ফুটবলে এফআই কামাল (ছোট কামাল)। যিনি আবাহনীতে খেলে ’৮৬ সালে তার দেয়া একমাত্র গোলে আবাহনী চ্যাম্পিয়ান হয়। সাহান উদ্দীন যিনি সাফ গেমসে এ্যাথলেটিকস্ েরৌপ্য পদক পেয়েছিলেন। সাহাজ উদ্দীন টিপু যিনি এখনো জাতীয় দলে খেলছেন। এছাড়া এক সময়ের ধানমন্ডি ক্লাবের গোল রক্ষক আসলাম খান, মোহামেডান এর খেলোয়াড় বিপ্লব মারমা সহ আরো অনেক খেলোয়াড় তৈরি হয়েছিল কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন মাঠ থেকে।
কাপ্তাইয়ের এসব মাঠগুলো এখনও বহাল তবিয়তে থাকলেও উধাও হয়ে গেছে জনপ্রিয় খেলা গুলো। এখনকার ছেলেরাতো ফুটবল খেলা ভুলেই গেছে। তবে মাঝে মধ্যে এ মাঠে ও মাঠে একটু-আধটু ক্রিকেট খেলা হয়। এটাকে খেলা না বলে ছেলেদের দুষ্টমী বলা চলে। কাপ্তাই উপজেলার রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত ক্লাব গুলো ঠাঁয় দাড়িয়ে আছে। কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা থাকলেও অর্থের অভাবে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ বলে জানালেন সংস্থার সাথে জড়িত এক কর্মকর্তা।
এদিকে, কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত কর্ণফুলী স্টেডিয়ামটি অযতেœ-অবহেলায় গো-চারন ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এর দেখ ভাল করার কেউ নেই। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কাপ্তাই সফরে এলে কর্ণফুলী স্টেডিয়ামের ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় আশ্বাস দিলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
কাপ্তাই এলাকার যুব সমাজের একটি বিরাট অংশ আজ খেলাধুলা বাদ দিয়ে বিভিন্ন নিষিদ্ধ নেশার জগতে হাবুডুবু খাচ্ছে। অথচ এসব যুবকদের ফেরানোর কোন উদ্যোগ কেউ নিচ্ছে না। বিপদগামী যুব সামজকে ফেরানো সম্ভব হলে হয়ত কাপ্তাই থেকে পুনরায় এফআই কামাল, সালাউদ্দীন টিপু সাহান উদ্দীন টিপুর, বিপ্লব মারমার মতো খেলোয়াড় এর জন্ম হতে পারতো। এলাকার উঠতি বয়সের কিশোর সীমান্ত, নিলয়, ফাহিম, রিফাত ও রিজভী জানান, খেলাধুলায় তাদের ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও ক্লাব গুলোতে কোন খেলার সামগ্রী না থাকা এবং সহযোগীতা না পাওয়ায় তারা খেলার খেলাধুলার প্রতি দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান বিপ্লব মারমা বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারনে উপজেলা পর্যায় তেমন কোন খেলাধুলা হচ্ছে না। মোবাইলে অশ্লিল ছবি দেখে এবং হাতের নাগালে থাকা নানাবিধ নেশার সামগ্রী ব্যবহারের কারনে অলস যুব সমাজ দিন দিন বিপদগামী হচ্ছে।