জাতিসত্ত্বা গঠনে ভূমিকা রেখেছে একমাত্র ঢাবিই

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৫ মে , ২০১৫ সময় ০৮:০১ অপরাহ্ণ

বিশ্বে একটি মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেটি একটি জাতিসত্ত্বা গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। সেটি হচ্ছে প্রাচ্যের অক্সর্ফোড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা যে কেউ অপকটে স্বীকার করে নিতে বাধ্য। স্বাধীনতার পরবর্তীকালে যে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনন্য। কিন্তু শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে এসে আজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান প্রশ্নবিদ্ধ। এতে যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে আসেন অধিকাংশই তাদের দলীয় আনুগত্যই মূল এবং তাদের একাডেমিক যোগত্য মোটেই গুরুত্ব পায়না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই পারবে এই সংকটকে মোকাবেলা করতে। একে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলার দায়িত্ব তাদরে হাতে।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘শতবর্ষের পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : উচ্চশিক্ষায় অর্জন ও প্রত্যাশা’ র্শীষক এক সেমিনার একথা বলেন বক্তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সমিতির বার্ষিক প্রকাশনা ‘প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর’ শীর্ষক সংকলন প্রকাশ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি গণতান্ত্রিকমনা প্রতিষ্ঠান। এখানে সব কিছু পরিচালিত হয়ে থাকে গণতান্ত্রিক উপায়ে। কিন্তু সামরিক সরকার এটিকে ভালো চোখে দেখে না। এটি ১৯৭৩-এর আদর্শের আদর্শগত ভিত্তি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও পরিচালিত হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যৎ রচনা করে এগিয়ে নেবে দেশকে। নের্তৃত্ব দেবে সমাজ ও রাষ্ট্রকে। যেভাবে তারা অতীতে করেছে।’

তিনি বলেন, ‘একশ বছরের সন্ধিক্ষণকে সামনে রেখে ডুজা যে সেমিনারের আয়োজন করেছে তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রত্যাশিত। এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এ ধরনের আলোচনা হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসকে সঠিকভাবে চর্চা করতে হবে। স্বাধীনতার ও সত্যনিষ্ঠতার মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিম উদ্দিন খান বলেন, ‘বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা যে কেউ অপকটে স্বীকার করে নিতে বাধ্য। এমনকি স্বাধীনতার পরবর্তীকালে যে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনন্য। তার মানে এই নয় যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক অবদান ছাড়া অন্য কোন একাডেমিক অর্জন নেই। যেই সমালোচনা প্রায় করা হয়ে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একদিকে শিক্ষা প্রদান ও অন্যদিকে গবেষণার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। অথচ শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে এসে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান প্রশ্নবিদ্ধ। যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে আসেন অধিকাংশই তাদের দলীয় আনুগত্যই মূল এবং তাদের একাডেমিক যোগত্য মোটেই গুরুত্ব পায়না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরাই পারবে এই সংকটকে মোকাবেলা করতে। তাদের দায়িত্ব একে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা।’

ডুজার সভাপতি মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সানাউল হক সানীর সঞ্চালনায় সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাবির কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।


আরোও সংবাদ